জাতির উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হলে এই জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন, যার ফলে প্রশাসনের কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনোদিন কি শুনেছেন মন্ত্রীরা প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে সকাল পৌনে নয়টায় সচিবালয়ে যায়? এখন যেতে বাধ্য, কারণ বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সকাল সকালেই সচিবালয়ে এসে অফিস করেন। তিনি অফিসে এসে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে যান।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জাতির মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।
সেমিনারে স্বাস্থ্য খাতের জনবল ও বেতন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা প্রদান কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী গত ৯ মাস ধরে তাদের নির্ধারিত বেতন পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি কর্মীর পদোন্নতি আটকে আছে।
বিজ্ঞাপন
এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আজ বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে আমরা একটি সন্তোষজনক ফয়সালা করব, যাতে তারা খুশি হন। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এই দুর্যোগের সময় তারা যেন আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।”
চিকিৎসকদের মহান পেশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে স্রষ্টার পরেই মানুষ যাদের ওপর ভরসা করে, তারা হলেন চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’-কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন– স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, আইসিসিডিআরবি এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিদ আহমেদ প্রমুখ।
বিজ্ঞাপন
এমএল/বিআরইউ
