স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ই-সিগারেট নিষিদ্ধে সক্রিয় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তামাক বিরোধী জোট।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) তামাক বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ থেকে ক্ষতিকর ই-সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ধারাটি সংশোধন করার সুপারিশ করেছে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে, যা বর্তমানে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থি। আমরা বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ই-সিগারেট নিষিদ্ধে সক্রিয় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানাই।
তামাক বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ই-সিগারেট ব্যবহার নেই বললেই চলে। তারপরও কম ক্ষতিকর, ধূমপান ত্যাগে সহায়ক এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের ব্যবহারের জন্য বলে এ নেশাপণ্য বাংলাদেশ বাজার সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সরকার ধূমপান ব্যবহার ত্যাগের লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ওষুধকে অত্যাবশকীয় ওষুধের তালিকা স্থান দিয়েছে। এ অবস্থায় ধূমপান ত্যাগে সহায়ক বলে এই নতুন নেশাপণ্য বাজারে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্য তরুণদের নতুন নেশায় আসক্ত করা। সরকার সিগারেটই প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে বিক্রয় নিশ্চিত করতে পারেনি। আর ই-সিগারেট শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে বিক্রি করা হবে এটা একটি অবান্তর দাবি।
আমরা লক্ষ্য করছি যে, ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর উল্লেখ করে তামাক কোম্পানি এবং কতিপয় ব্যবসায়ী এর প্রসারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কম ক্ষতিকর পণ্য নয়। বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, আসক্তি সৃষ্টিকারী ই-সিগারেট ফুসফুসের ক্ষতির পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ই-সিগারেটে এবং নিকোটিন পাউচ জাতীয় পণ্যগুলোকে প্রচলিত সিগারেটের বিকল্প, সিগারেট ছাড়ার উপায়, কম ক্ষতিকর বা নিরাপদ-কোনোভাবেই উল্লেখ করা যায় না। ব্যবসায়ীদের কথা অনুসরণ না করে, যে সব দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তামাক ব্যবহার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫.৩ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে হারে সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে, সরকার নানা ধরনের কর্মমূচি গ্রহণ করার পরও সেটি রোধ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় ই-সিগারেটকে যদি বৈধতা দেওয়া হয় তবে এটি ব্যাপকভাবে যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এএসএস/জেডএস
