দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পোর্টাররা। এই চার ধরনের মাঠকর্মীরা সবাই এই মুহূর্তে আছেন বকেয়া বেতন, পদোন্নতি জটিলতা ও চাকরি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তায়। তারা সরকারের কাছে নানা দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তারা। তেমনটা হলে সারা দেশের টিকাদান কার্যক্রম থেমে যাবে।
বিজ্ঞাপন
দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্য বিভাগের ‘পোর্টার’দের ৯ মাস ধরে বেতন বন্ধ। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরা। তারা অনেক দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। বারবার আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত সমাধান না আসায় সবার মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তারা সবাই মিলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না তারা। এতে চলমান হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে দেশের যে কয়েকটি প্রকল্প দেশি-বিদেশি সুনাম অর্জন করেছে, তার মধ্যে ইপিআইয়ের টিকাদান কর্মসূচি অন্যতম। আর এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন তারাই। এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও তাদের বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে বিগত সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বারবার অনীহা দেখিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরে তাদের চেয়ে নিচের পদে যোগদানকারীরাও একাধিকবার পদোন্নতি পেয়ে দুই-তিন গ্রেড উপরে উঠে গেছে।

গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আসেন বান্দরবানের পোর্টার সমীর চক্রবর্তী। তিনি সেখানকার লামা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ৩টি হাম রোগীর নমুনা জমা দিতে এসেছেন। ঢাকা পোস্টকে এই প্রান্তিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই কাঁধে আটটি টিকার বাক্স নিয়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে টিকা সরবারাহ করি। কখনো সাইকেল, কখনো নৌকায়, কখনো পায়ে হেঁটে টিকা কেন্দ্রে যেতে হয়। যত দুর্যোগই থাকুক না কেন আমাদের টিকা সরবারাহের কাজ করতেই হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আমরা প্রতি মাসে ৩০ দিন কাজ করি, টাকা পাই ২২ দিনের। তার মধ্যেও নয় মাসের টাকা বাকি। আমার বয়স ৪৪ বছর, এখনো বিয়ে করতে পারিনি। একটা থাকার ঘর পর্যন্ত নেই। কোনোমতে দিন পার করছি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু আমাদের পোড়া কপাল, সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করে। এখন আমাদের দাবি একটাই, সরকার আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দিক এবং আমাদের চাকরিটা স্থায়ী করে দিক।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী ও ঢাকা বিভাগ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন-এর সভাপতি শাহাদুল ইসলাম রিপন বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছি। সরকার থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে আমাদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখায় আছে। দেশে কোনো দুর্যোগ এলে আমাদের সাথে বসে সরকার, অন্য সময় ভুলে যায়। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে বিগত সময়ের চেয়েও আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, সরকারের উপর মহল থেকে চাওয়ার পরও একটি নতুন পোস্ট তৈরি করতে কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে। আর যদি স্বাভাবিকভাবে আগায়, তাহলে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। সরকার চাইল আর নতুন পোস্ট বানিয়ে পদোন্নতি কিংবা নিয়োগ দিয়ে দিলো- সেটা কখনোই সম্ভব নয়। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তাই স্বাস্থ্য সহকারী ও পোর্টারদের দাবি পূরণে সময় লাগবে।
বিজ্ঞাপন

পোর্টারদের ৯ মাস বেতন বকেয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাকেন্দ্রে টিকা সরবারাহের কাজ করেন পোর্টাররা। প্রতি তিন ইউনিয়ন মিলে একজন পোর্টার দায়িত্ব পালন করেন। তারা পুরো মাস কাজ করলেও বেতন পান ২৪ দিনের, দৈনিক হাজিরা ৭০০ টাকা। কোনোদিন অনুপস্থিত থাকলে ওইদিনের বেতন পান না। ২০২৪ সালের অক্টোবর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বেতন পাননি পোর্টাররা। বকেয়া বেতনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি জানিয়ে আসলেও কারো কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে পোর্টারদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বরাবর পোর্টারদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য একটি বাজেট বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। সেই চিঠিতে পোর্টারদের বকেয়া বেতন পরিশোধ বাবদ ১৯ কোটি ২৫ লক্ষ্য ৭৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
৬ দাবিতে এক বছর ধরে আন্দোলনে ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী
দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত ১৫ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী পরিদর্শক ও সহপরিদর্শক দীর্ঘদিন ধরে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন এবং টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বছরের ২৫ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৯ জুলাই দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসজুড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে বৃহৎ কর্মসূচি পালন করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বর্তমানে ছয় দফা দাবির মধ্যে তিনটি দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দাবিগুলো হলো চাকরির গ্রেড ১৬ থেকে ১৪-তে উন্নীতকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধন এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, যৌক্তিক দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করলেও সরকার এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের অভিযোগ, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার সাময়িকভাবে উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবির বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি থাকে না।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের তিন দাবি
দেশের সাড়ে তিন হাজার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ১২শ পরিদর্শক দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। তারা তা ১২তম গ্রেডে উন্নীত করতে দাবি জানিয়ে আসছেন। আর সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরা ১৫তম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে পদোন্নতি চাচ্ছেন। একই সাথে পরিদর্শকদের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা রাখা এবং সরকার থেকে প্রত্যেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবি আদায় নিয়ে তড়িঘড়ি কমিটি, অসন্তোষ নেতাদের
বর্তমানে চলমান হাম সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা অসহযোগিতার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা গত ৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে, তাদের ঘোষণার আগেই গত ২ এপ্রিল স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বঞ্চনার বিষয়গুলো সমাধানে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী এবং সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংগঠনের প্রতিনিধি। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে কমিটির সদস্যদের নিয়ে গতকাল (৬ এপ্রিল) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৈঠকে অংশ নিতে আসা পোর্টার ও স্বাস্থ্য সহকারী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা জানান, আজ মিটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। তারপরও গঠিত হওয়া কমিটির সভাপতির কাছে আমরা আমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি। এর আগেও আমরা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মিটিং-এ মতামত প্রদান করেছিলাম। সেখানে স্বাস্থ্য সচিব, মহাপরিচালকসহ অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাদের দাবিগুলো শুনে একটা কমিটি গঠন করে দেন। সবাই দাবির কথা শোনেন, সমাধনের আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে আর সমাধান করেন না, ঝুলিয়ে রাখেন।
দাবি পূরণ না হলে টিকাদান কর্মসূচি শাটডাউনের ঘোষণা
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শাটডাউনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। এ বিষয়ে মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সারা দেশের ১৫ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। দাবি আদায়ের ব্যাপারে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বলছেন। আমরা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করব, এরপর কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবো।
‘যদি সরকার এ সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হাজির করতে না পারে তাহলে পূর্বের চেয়েও বড় অন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বাস্থ্যসহকারীরা। এ ক্ষেত্রে আগামী ৩ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া সারা দেশের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের ১৫ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী যদি কাজ না করে তাহলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না’- বলেন ওয়াসি উদ্দিন।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা পূর্বের ৬ দাবি থেকে সরে এসে তিনটি দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। সেগুলো হলো- আমাদের ১৬ গ্রেড থেকে ১৪ গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ, স্বাস্থ্য সহকারীদের টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান এবং আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগ বিধি সংশোধন করে ইন্টার পাশ থেকে স্নাতক করা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পোর্টার কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবুল হোসেন তালুকদার জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ। বিগত সরকার আমাদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করে গেছে। পদ সৃষ্টির নাম করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় নানা টালবাহানা করেছে। বর্তমান সরকার আমাদের সাথে ঘটা অন্যায়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে। আর আমাদের বকেয়া বেতনও পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি পোর্টারদের দুঃখ দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কোনমতে খুব কষ্ট করে দিন পার করি। আমাদের সকাল ৬টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। গত বছরের জুন থেকে আমাদের দৈনিক মজুরি হিসেবে ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। তাও ২০ দিন, ২২ দিন এবং সর্বোচ্চ ২৪ দিনের টাকা পাই। সরকার যদি আমাদের চাকরিটা স্থায়ী করে তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা আমাদের নেই। এর আগেও স্বাস্থ্য সহকারীরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছে কিন্তু আমরা টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিয়ে বসে থেকে আবার ফেরত এসেছি। আমরা যদি কাজ না করি তাহলে আমরা মজুরি পাই না। তাই অন্য কোনো চিন্তা না করে যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি।
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিদর্শক সমিতির সভাপতি দীনেশচন্দ্র মন্ডল বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী, পোর্টার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহস্বাস্থ্য পরিদর্শকরা যেসকল দাবি জানিয়ে আসছে এগুলো দীর্ঘদিনের দাবি। সকলেই আমাদের শুধু আশ্বাস দেয় কিন্তু কেউই বাস্তবায়ন করে না। বর্তমান সরকার আমাদের নিয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছে আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যদি আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কোনোরকম গড়িমসি করে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ইতোমধ্যে গত ২ এপ্রিল মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা পোর্টার এবং স্বাস্থ্য সহকারী নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে তাদের সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করেছি। পোর্টারদের ৯ মাস বেতন বকেয়া আছে। তারা যে পরিমাণ কষ্ট করে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে সে তুলনায় তাদের মজুরি খুবই সামান্য। এর মধ্যে আবার বেতন বকেয়া পড়ে আছে। এদিকে স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রমোশনসহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা সকলের দাবিগুলো শোনার চেষ্টা করছি। কীভাবে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা যায় সেজন্য আমরা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। তবে একটু সময় প্রয়োজন সবকিছু ঠিক কররতে।
এর আগে গত ১ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা তাদের দাবিসমূহ আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করছি। আশা করি, খুব শিগগিরই তারা একটি সন্তোষজনক সমাধান পাবে।
এমএল/জেএস
