বিজ্ঞাপন

ডা. কামরুলকে হয়রানি, দলীয় বিবেচনায় ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অ+
অ-
ডা. কামরুলকে হয়রানি, দলীয় বিবেচনায় ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে খ্যাতিমান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ক্রাউন প্লাজায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে হয়রানি করা ব্যক্তি যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দল-মত নির্বিশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈনের বিরুদ্ধে হাসপাতালে মালামাল সরবরাহে চাপ প্রয়োগ, বাজারদরের চেয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য সরবরাহ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া হাসপাতালে ‘মব’ বা গণবিক্ষোভ সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও করা হয়।

শনিবার সিকেডি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম নিজেই এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাসপাতালের সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে স্বাভাবিক কাজে বাধা দেন।

ডা. কামরুল আরও অভিযোগ করেন, তাঁর অজ্ঞাতসারে হাসপাতালের জন্য বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ডিম, চালসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, সরবরাহ কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার পর ১০ এপ্রিল সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন এবং কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এর আগে ২৯ মার্চও হাসপাতালের কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২২৬৬) করা হয়েছে।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, গত ১৭ বছরে এই হাসপাতালে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে রোগীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই প্রখ্যাত চিকিৎসক। একই সঙ্গে তিনি একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমএল/বিআরইউ