ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ যেন মারাত্মক আকার ধারণ করে সেটাই চেয়েছিল বিরোধী দল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করার ফলে তাদের (বিরোধী দলের) উদ্দেশ্য সফল হয়নি। হাম বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকার আসার পরই পুরো বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে, ঠিক সেই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেকটি পদক্ষেপ সফলভাবে নিতে সক্ষম হচ্ছেন। হাম বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিগত সরকারের অবহেলার কারণে আজ হামের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা তাদের রুটিন কার্যক্রমও সঠিকভাবে পরিচালনা না করার কারণে আমাদের নানামুখী সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে আমরা আশা করছি, শিগগিরই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আল্লাহর রহমতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হামের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও আমরা এই কার্যক্রম শুরু করছি। আমার বিশ্বাস, আগামী ছয় মাস ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনে সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে মিজেলস (হাম) থেকে আমরা স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারব।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তা উদ্বেগজনক। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এরইমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। গণমাধ্যম যদি অভিভাবকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়, তাহলে এই সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সময়মতো টিকা প্রদানই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, একজন হাম আক্রান্ত রোগী ১৮ জন পর্যন্ত ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইসোলেশন। এ লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএল/জেডএস
