বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যসেবায় বঞ্চনা ও চরম ঝুঁকি: পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের করুণ বাস্তবতা

স্বাস্থ্যসেবায় বঞ্চনা ও চরম ঝুঁকি: পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের করুণ বাস্তবতা

শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, দেশের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এখনও স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার শিকার। স্বল্প মজুরি, সামাজিক মর্যাদাহীনতা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্য দিয়েই তাদের দিনাতিপাত করতে হয়। মলমূত্র পরিষ্কার, রাস্তাঘাট ঝাড়ু দেওয়া কিংবা সেপটিক ট্যাংক খালি করার মতো বিপজ্জনক কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। প্রায়শই কোনো ধরনের নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই তারা রাস্তা পরিষ্কার, স্যুয়ারেজ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, মানববর্জ্য অপসারণ, মৃত প্রাণী সরানো এবং মেডিকেল বর্জ্য অপসারণের মতো কাজ করতে বাধ্য হন। ফলে প্রতিনিয়তই তারা ক্যান্সার, লিভার ও কিডনির জটিলতা, চর্মরোগসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সনাতন পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম প্রধান শিকার। ঐতিহ্যগতভাবে এ পেশার সঙ্গে হরিজন বা দলিত জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। দেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫ লাখ দলিত মানুষ বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলিত সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসে। মূলত বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) অঞ্চলের দস্যুদের আক্রমণে নিহতদের মৃতদেহ অপসারণের কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে তাদের আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা এ ভূখণ্ডেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২৭টি কলোনিতে তারা বসবাস করছেন এবং শহরাঞ্চলের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছেন।

শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার শিকার। কোনো নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই মলমূত্র পরিষ্কার, সেপটিক ট্যাংক খালি করা এবং মেডিকেল বর্জ্য অপসারণের মতো বিপজ্জনক কাজ করার ফলে তারা ক্যান্সার, লিভার, কিডনি ও চর্মরোগসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন

গত কয়েক দশকে দেশের শহরাঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হলেও, গ্রামাঞ্চলে এখনও উন্মুক্ত শৌচাগারের ব্যবহার বিদ্যমান। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অধিকাংশই দলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ কাঠামোর বাইরে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে তারা প্রায়শই কোনো সুরক্ষা উপকরণ ছাড়াই খালি হাতে মানববর্জ্য অপসারণে বাধ্য হন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দলিত জনগোষ্ঠীর ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তাদের বসবাসস্থলের নিকটবর্তী এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। ফলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে তারা গ্রাম্য চিকিৎসক, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এছাড়া ২০.৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাদের পরিচয়ের কারণে চিকিৎসা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

সনাতন পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণের কাজে ঐতিহ্যগতভাবেই হরিজন বা দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষ নিয়োজিত। ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশরা উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৃতদেহ অপসারণের উদ্দেশ্যে তাদের এদেশে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তারা এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে শহরাঞ্চলের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে অবদান রাখছে

যদিও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে মাস্ক, গামবুট, জুতা ও অ্যাপ্রোনসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, বাস্তবে এ সরবরাহ নিয়মিত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহারের পর সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেলে তা পুনরায় সরবরাহ করা হয় না, এমনকি অনেক কর্মী কখনওই এসব সুরক্ষাসামগ্রী পাননি বলেও জানিয়েছেন। ফলে আবর্জনা অপসারণ ও বাছাইয়ের সময় অসতর্কতাবশত হাত ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগেন।

একই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৯৪ শতাংশই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অসুস্থতার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ সর্দি-কাশি ও জ্বরে, ৪২ শতাংশ পিঠব্যথায়, ৩৬ শতাংশ পেটব্যথায়, ৩০ শতাংশ গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় এবং ২০ শতাংশ চর্মরোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অসুস্থ ব্যক্তিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে না গিয়ে ফার্মেসি থেকে কম দামে ওষুধ কিনে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কলোনিগুলো অত্যন্ত নোংরা ও জরাজীর্ণ এবং সেখানে নিরাপদ পানি ও পর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম অভাব রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৪ শতাংশ কর্মী বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হন এবং ৫৪ শতাংশের বসবাসের কাছে সরকারি হাসপাতাল নেই। এছাড়া পরিচয় বা পেশার কারণে অনেকে চিকিৎসা পেতে বাধার সম্মুখীন হন

কলোনিতে বসবাসরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র

ওয়ারী সিটি কলোনির বাসিন্দা আনন্দ বলেন, আমাদের জীবন বাজি রেখেই প্রতিদিন কাজে যেতে হয়। এ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই মারা যান, কিন্তু আমাদের জন্য কোনো ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা নেই। প্রতিনিয়তই আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হই, অথচ আমাদের কোনো চিকিৎসা সুবিধা নেই। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই অনেকেই অসুস্থ হওয়ার পরও হাসপাতালে যান না।

গোপীবাগ টিটি পাড়া কলোনির বাসিন্দা ও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মনি রায় বলেন, আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। আমাদের না আছে বাসস্থান, না আছে সামাজিক মর্যাদা। কিছুদিন পরপরই উচ্ছেদ অভিযানের নামে আমাদের ওপর অমানবিক আচরণ করা হয়। আমি যেখানে থাকি, সেখানে না আছে পানির ব্যবস্থা, না আছে পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। মাত্র পাঁচটি বাথরুম আমরা ৩৬টি পরিবার মিলে ব্যবহার করি। প্রতিনিয়তই আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ অসুস্থ থাকে, কিন্তু ভালো চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ আমাদের নেই।

গাবতলী সিটি পল্লী সুইপার কলোনির বাসিন্দা এম রাজা বলেন, আমরা যেখানে বসবাস করি, সেখানে কোনো সুস্থ মানুষ এলেও অল্প সময়ে অসুস্থ হয়ে যাবে। বৃষ্টি হলে ড্রেন ও টয়লেটের পানি আমাদের ঘরে চলে আসে। অর্থের অভাবে মাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে পারিনি, তিনি কিছুদিন আগে মারা গেছেন। আমরা প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো রোগে ভুগি, কিন্তু চিকিৎসা নিতে পারি না। বড়জোর ফার্মেসি থেকে অল্প টাকার ওষুধ কিনে খাই।

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার মিরজিল্লা সুইপার কলোনির বাসিন্দা গগন লাল বলেন, অত্যন্ত ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে কাজ করার ফলে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের কলোনিতে অনেকেই ক্যান্সার, কিডনি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন, কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। আমরা ভোর ৩টায় উঠে শহর পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়ি, সূর্য ওঠার আগেই শহরকে বাসযোগ্য করি। কিন্তু আমাদের দেখার কেউ নেই। সরকার যদি আমাদের স্থায়ীভাবে থাকার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলেই আমরা একটু শান্তিতে বাঁচতে পারি।

নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সংকট

নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে দলিত নারী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনি রানী দাস বলেন, ‘খুব ভোরে যখন নারীরা রাস্তা পরিষ্কারের জন্য বের হন, তখন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। রাস্তাঘাটে মানুষ কম থাকায় অনেক সময় তারা ছিনতাই বা যৌন নিপীড়নের শিকার হন। এছাড়া, নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি মাত্র চার মাস পান, কিন্তু এ সময় কাজ করতে পারেন না বলে বেতনও পান না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হরিজন সম্প্রদায় পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় নারীরা পুরুষের কথার বাইরে যেতে পারেন না। নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও পুরুষেরা অনেক উদাসীন। অনেক সময় নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সভা-সেমিনার আয়োজন করলেও পুরুষদের কারণে তারা অংশ নিতে পারেন না।’

দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে এখনও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা, চাকরি ও বেতন-ভাতাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রেখে জাতি হিসেবে আমরা এগোতে পারব না এবং এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না। বর্তমানে শুধু দলিত জনগোষ্ঠী নয়, অনেক মুসলিমও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ কাজে নিয়োজিত আছেন। তাই সরকারের উচিত তাদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা।’

বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ থেকে শুরু করে স্যুয়ারেজ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, মানববর্জ্য অপসারণ, মৃত প্রাণী সরানো, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মর্গে কাজ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুরক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা কাজ করতে বাধ্য হন, ফলে জীবাণু সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, দুর্ঘটনা ও বিষাক্ত গ্যাসজনিত ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের সময় সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মেডিকেল বর্জ্য ও মৃত প্রাণীর পচনশীল দেহ থেকে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কাজ করার পূর্বে যথাযথ সুরক্ষা নিলে রোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ থাকা প্রয়োজন, যাতে রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কলোনিতে বসবাসরতদের নিরাপদ পানি, মৌলিক পয়োনিষ্কাশন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। শিশুদের পুষ্টি ও সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ মানুষের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব।’

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘আমরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের গ্লাভস, মাস্ক, গামবুট ও অ্যাপ্রোন দিয়েছি, কিন্তু তারা অনেক সময় এগুলো পরে কাজ করতে চান না। আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছি, যার আওতায় হেলথ কার্ডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে ৪২০টি হাসপাতালে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া, কার্ডধারী এক বছরের মধ্যে মারা গেলে তার পরিবার ৩০ হাজার টাকা পাবে। কাজ করা অবস্থায় কেউ মারা গেলে তিন লাখ টাকা এবং সৎকার বা দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।’

এমএল/এমএআর/