বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১.৪ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও, অনেকেই তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নন এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজনের রক্তচাপ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রায়ই একটি স্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর জন্য চিকিৎসা ও প্রতিরোধ খুবই জরুরি। না হলে বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি হঠাৎ করে মৃত্যুরও ঝুঁকি থাকে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস-২০২৬। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘একসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন : নিয়মিত আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন, এই নীরব ঘাতককে পরাজিত করুন।’
উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১৪ মে ওয়াল্ড হাইপারটেনশন লিগ (ডব্লিউএইচএল) সর্বপ্রথম বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসের সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১৭ মে দিনটি নিয়মিতভাবে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক র্যালি, আলোচনা সভা এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
রক্তচাপ সাধারণত দুই ধরনের, যথা- সিস্টোলিক ও ডায়াস্টলিক। নরমাল সিস্টোলিক ১০০ থেকে ১৪০ এবং ডায়াস্টলিক ৬০ থেকে ৯০ মি.মি মার্কারি। কারও ব্লাড প্রেশার যদি ১৪০/৯০ বা এর চেয়েও বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে। তবে বয়স ভেদে তারতম্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, ধূমপান, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগী দিন দিন বাড়ছে। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় অনেকেই দীর্ঘদিন রোগটি সম্পর্কে জানতে পারেন না।
দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন বিনামূল্যে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজভিত্তিক উদ্যোগও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এসএম
