বিজ্ঞাপন

কর্মস্থলে চিকিৎসকরা হামলার শিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

কর্মস্থলে চিকিৎসকরা হামলার শিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে নিজ কর্মস্থলে মারধরের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার ও চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো। শরীয়তপুরের এই ঘটনার আগে, গত ২০ এপ্রিল বিকেলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) উপ-পরিচালক ডা. আহমেদ হোসেনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে, ১৬ এপ্রিল পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় কুমার রায়কে দুই দফায় মারধর করা হয়। গত ১৯ মে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নবজাতকের মরদেহসহ দুই স্বজনকে সাত ঘণ্টা আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসব ঘটনার বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ভুল চিকিৎসার ফলে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় খুব সহজেই ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ তুলেছেন ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা অধিকাংশই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে খুব সহজেই তারা পার পেয়ে যান। কিন্তু এই ঘটনার পর ওই চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে খুব সামান্য সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদেরও অন্যত্র রেফার করেন। ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ রোগীরা। এদিকে, এসব ঘটনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল, যারা টেন্ডার ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তারাই এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

dhakapost
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে নিজ কর্মস্থলে মারধরের ঘটনা, সিসিটিভি ফুটেজ / ঢাকা পোস্ট

গতকাল রাজধানীর প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা বিগত দিনে যেভাবে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংয়ে দুর্নীতি করেছে, এর ফলে একটি ইন্টারেস্ট গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগে ক্যান্সার হাসপাতালে আমাদের এক ডেপুটি ডিরেক্টরকে কুপানো হলো টেন্ডারের কারণে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জাহিদ সাহেবকে টেন্ডারের কারণে, ক্লিনিক বন্ধ করার কারণে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শরীয়তপুরে যে ডাক্তারকে আঘাত করা হয়েছে, এগুলোর পেছনে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে, যারা আমাদের ডাক্তারদের টার্গেট করেছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে শরীয়তপুর, পঞ্চগড়, ঢাকা ও বরিশালে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর ধারাবাহিক নৃশংস হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট, অবৈধ ক্লিনিক মালিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচারহীনতা ও নিরাপত্তার এই চরম সংকটের কারণে চিকিৎসকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

ডাক্তারদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের পর প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন প্লাটুন কমান্ডার অস্ত্রসহ নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে চিকিৎসকরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’ এর এক দিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম বা ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘কোড ব্লু’ বা ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাখালী এলাকায় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে আলাদা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে একাধিক হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ডাক্তারদের নিরাপত্তা। প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসকরা। হয়তো দুই-একটি ঘটনা সামনে আসে। বিশেষ করে উপজেলা হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে এই ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। এই কারণে অনেক রোগীর চিকিৎসা উপজেলা হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব হলেও সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে রোগীদের জেলা কিংবা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। ওই রোগীর মৃত্যুঝুঁকিও অনেকটা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো চিকিৎসকদের মাঝে আরও বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

dhakapost

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাকেও উড়ো চিঠিতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসব পরোয়া করি না। আমি আমার কাজ করে যাব।’ কী কারণে আপনার প্রতি এমন ক্ষোভ— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ট্রাফিকিং (পাচার) বন্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছি এবং টেন্ডারবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই একটি গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।’

কর্মস্থলে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার কারণে চিকিৎসকদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলো থেকে সামান্য সমস্যাতেই রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা চরম চিকিৎসা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া, নিরাপত্তাহীনতায় অনেক দক্ষ চিকিৎসক দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন

কর্মস্থলে ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ রোগী ভর্তি হয়। আবার হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের ঘাটতিও রয়েছে। এই অতিরিক্ত রোগীদের সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। এর ফলে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সেটার তদন্ত না করে চিকিৎসকদের ওপর মব সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখন পর্যন্ত আমরা যে বিষয়টি পেয়েছি, হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট গ্রুপ তৈরি হয়েছে। এসব সিন্ডিকেট গোষ্ঠী হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টির মাধ্যমে মব তৈরি করে চিকিৎসকদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। আমরা এসব গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আর হামলার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।

চিকিৎসক সংগঠনের বক্তব্য

চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা দেন এবং যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তারা উভয়ই চাপের মুখে থাকেন। একটি হাসপাতালে রোগীর ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকে, কিন্তু ডাক্তার তো সীমিত। অনেক চাপ নিয়ে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। আবার রোগীরাও মনে করেন, তাদের হয়তো পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে রোগীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা যখন দেখেন, তাদের অসুস্থ রোগীটি একটি বেড পর্যন্ত পাচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক অবস্থার বিপর্যয় ঘটে। ঠিক এই সময় যদি রোগী মারা যায়, তখনই তারা ডাক্তারদের ওপর চড়াও হন। আমাদের সব ডাক্তারদের দক্ষতা যাচাই-বাছাই করেই চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোনো ডাক্তারই কখনও কোনো রোগীর খারাপ চাইবেন না এটা আমরা বিশ্বাস করি।

dhakapost

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে মানুষ চাপের মুখে আছে। ক্ষমতার পালাবদলে কেউ নতুন করে ক্ষমতা পেয়েছে, আবার কেউ তাদের হাতে থাকা ক্ষমতা হারিয়েছে। ফলে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এসে পড়ছে চিকিৎসকদের ওপর। কারণ, এসব গোষ্ঠী জানে, চিকিৎসকদের ওপর হামলা করলে খুব সহজেই পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব। এই কারণেই হয়তো চিকিৎসকদের বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর একটা সুরাহা হওয়া দরকার, নইলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি অস্থিরতা তৈরি করতে একটি গ্রুপ উঠেপড়ে লেগেছে। এই অস্থিরতার লক্ষবস্তু হিসেবে আমাদের চিকিৎসকদের টার্গেট করা হয়েছে। এখানে অনেক ইন্টারেস্ট গ্রুপ কাজ করছে বলে আমরা মনে করি। একটি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল, অন্যটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করার প্রচেষ্টা। তারা মনে করেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করা গেলে খুব সহজেই রোগীদের পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।

dhakapost

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাসিরের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনাটি আমাদের অনেক বার্তা দেয়। রোগী মারা যাওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো লোকজন জড়ো হয়ে নাসিরকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এটা দেখে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আমাদের চিকিৎসকরা যে এর প্রতিবাদে আন্দোলনে যাবেন না, তা বলা সম্ভব নয়। যদি চিকিৎসকরা আন্দোলনে যান, তাহলে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আমরা সেটা কখনও-ই প্রত্যাশা করি না। তাই রোগী ও দেশের জনগণকে বলব, দয়া করে দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখুন। আর চিকিৎসকদেরও বলব, আপনারা আপনাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও ভালোবাসা দিয়ে রোগীদের সেবা করুন। রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি হলেই আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশের মধ্যে একটি সামগ্রিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার কারণেই বারবার আমরা এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি। বর্তমান সময়ের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডাক্তারদের ওপর আক্রমণের ঘটনা তেমন ঘটেনি। কারণ, তখন মানুষের মাঝে একটি ভয় কাজ করত। কিন্তু এখন মানুষের মাঝে সেই ভয় কাজ করছে না বলে আমাদের মনে হচ্ছে, যার পেছনে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা দায়ী। যারা এই কাজগুলো করে, আমি তাদের মানসিকভাবে অসুস্থ মনে করি। এতটা অসভ্য ও বর্বর মানুষ কেমন হয়? দেশের একটি সামগ্রিক পরিবেশ যেন এসব মানুষকে এই কাজগুলো করতে সাহস জোগাচ্ছে, যা অত্যন্ত নেতিবাচক ও নিন্দনীয়।

dhakapost

ডাক্তারদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, যতই কষ্ট হোক না কেন, রোগী কিংবা তার অভিভাবকদের সঙ্গে রিপোর্টিং নিয়ে একটু যোগাযোগ করা দরকার। এর ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা অবহিত থাকবেন। বর্তমানে ডাক্তারদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হারে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাতে চিকিৎসকদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। এর ফলে আমাদের রোগীরাই ভোগান্তির শিকার হবেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা আমরা কেউই চাই না।

ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) মুখ্য সমন্বয়ক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, মিডিয়ায় কিছু ঘটনা আসে, সেগুলোই আমরা জানতে পারি। কিন্তু এর বাইরেও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিয়ত চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। যারা চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ করছেন, তারা অধিকাংশই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব কাজ করছেন। একদিকে তাদের রাজনৈতিক শেল্টার রয়েছে, অন্যদিকে ডাক্তারদের মারধরের ঘটনায় বিচারের নজির না থাকায় তারা খুব সহজেই এসব ন্যাক্কারজনক কাজ করে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

 

dhakapost

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রসহ ১০ জন আনসার সদস্য ও একজন প্লাটুন কমান্ডার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম বা ‘পাগলা ঘণ্টা’ এবং বিশেষ ‘কোড ব্লু’ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহাখালী এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে

‘আমি অনেককে চিনি, যারা কর্মস্থলে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। হয়তো তারা আর কখনও আমাদের দেশের মানুষের চিকিৎসা দিতে আসবেন না। কেনই বা আসবেন? তাদের জীবনের নিরাপত্তা তো আমাদের রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। রোগী এবং চিকিৎসকদের মাঝে যে বৈরী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাসে পরিণত না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

এমএল/এমএআর/