শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর না করে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস.এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নাগরিক অধিকার ও কাঠামোগত সংস্কার’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য শুধু মেডিকেল চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা যদি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিরও উন্নতি সম্ভব।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের মেডিকেল কারিকুলাম এখনও অনেকটাই পুরোনো ধাঁচের। এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। শুধু এমবিবিএস নয়, মেডিকেল সেক্টরের সব স্তরের কারিকুলাম পর্যালোচনা ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছি।
দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুটিকয়েক হাসপাতাল রয়েছে যেখানে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। আমাদের দেশে মেন্টাল হেলথ স্পেশালিস্টের সংখ্যাও খুবই কম।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের স্কুলগুলোতে যেভাবে আনন্দময় পরিবেশে পাঠদান হওয়ার কথা, শিশুরা তা পাচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে নৈতিক শিক্ষাকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এমন একটি আনন্দঘন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যাতে শিশুরা স্কুলে যেতে আগ্রহী হয়। একইসঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পারিবারিক ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ছে। সমাজ ও পরিবারকে শক্তিশালী না করতে পারলে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছে। একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হওয়ার শুরুতেই তাকে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ৩০৫ জন এবং সাইকোলজিস্ট রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। এত অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এমএল/জেডএস
