বিজ্ঞাপন

মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা চিকিৎসক সংগঠনগুলোর

মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা চিকিৎসক সংগঠনগুলোর

সম্প্রতি দেশের চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিক মাসুদ কামালের দেওয়া মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। একটি ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ও তদন্তে থাকা শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তার দেওয়া মন্তব্যকে ‘অশালীন, অবমাননাকর ও অনভিপ্রেত’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং চিকিৎসক সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ) এবং বিসিএস হেলথ ফোরামের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতারা বিবৃতিতে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় মাসুদ কামাল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে দেশের চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ডাক্তারদের মতো চামার কোনো শ্রেণি এই দেশে আর নেই। তারা বলেন, একটি পুরো পেশাজীবী সম্প্রদায়কে এ ধরনের অবমাননাকর ভাষায় আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। অবিলম্বে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে চিকিৎসক সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড্যাব নেতারা বলেন, অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ড্যাব নেতারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ প্রয়োজন। তবে একটি পেশাজীবী সমাজকে হেয় করে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রচারণা দেশের চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো পেশাজীবী সমাজকে ঢালাওভাবে আক্রমণ করা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করে হেয় করা সুস্থ সাংবাদিকতার পরিপন্থি।

তারা বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সীমিত সম্পদ, অতিরিক্ত কর্মচাপ ও বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় সংকটে চিকিৎসকরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে জনগণের পাশে ছিলেন। এমন একটি পেশাজীবী সম্প্রদায়কে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের মধ্যকার আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ) নেতারা বলেন, যে-কোনো পেশার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর, শালীন ও দায়িত্বশীল। সমালোচনার নামে একটি পুরো পেশাজীবী সম্প্রদায়কে অবমাননাকর অভিধায় আখ্যায়িত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঠিক ব্যবহার নয় বরং এটি সামাজিক বিভাজন ও বিদ্বেষকে উসকে দিতে পারে। তারা মাসুদ কামালের বক্তব্য প্রত্যাহার করে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

বিসিএস হেলথ ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল পরিবেশ, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে। মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যে–কোনো জাতীয় সংকটে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংগঠনটি জানায়, একটি পুরো পেশাজীবী গোষ্ঠী সম্পর্কে অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য শুধু চিকিৎসকদের নয়, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিও অবজ্ঞার শামিল। তাই অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে চিকিৎসক সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমএল/জেআই/জেডএস

বিজ্ঞাপন