রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লাইসেন্স বাতিলের এই ঘোষণার পর হাসপাতালটিতে নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।
তবে, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪১৬ জন সাধারণ রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া, এনআইসিইউতে ৬০ নবজাতক, আইসিইউতে ২০ জন এবং সিসিইউতে চারজন রোগী চিকিৎসাধীন। এই বিপুলসংখ্যক রোগীর চলমান চিকিৎসা ব্যবস্থার কী হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাসপাতালটিকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ লাইসেন্সবিহীন, তাই এখানে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের যেন দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি সরকার দেবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লাইসেন্স বাতিলের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর হাসপাতাল এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১ থেকে ৪ দিন বয়সী ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং ওই দিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়। নোটিশের জবাব দিতে প্রথমে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও পরে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং গত ৯ জুন তারা লিখিত জবাব দাখিল করে।

তবে, ওই জবাব পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বেশি ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982’-এর ১১ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১ থেকে ৪ দিন বয়সী ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং ওই দিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়
এদিকে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী রোববার সরকারের কাছে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

এর আগে ৬ জুন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘অস্পষ্ট’ দাবি করে বলেন, ওয়ার্ডে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কত ছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তবে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৭ জুন ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিআইডির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানিয়েছেন, লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী রোববার (১৪ জুন) সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল আবেদন করা হবে।
এমএল/এমএআর/
