রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এ রিটের সঙ্গে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এদিকে হাসপাতাল বন্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সঙ্গে সোমবার (১৫ জুন) বিকেল চারটায় কথা বলবেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয় জাতির সামনে স্পষ্ট করবেন।
এর আগে সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আমরা হাসপাতাল বন্ধ করেছি। কিন্তু মেডিকেল কলেজ বন্ধ করিনি। শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে পারবে। তাদের আরও হাসপাতাল আছে, সেখানে নিতে পারে। অমানবিক সেবার কারণে আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে। গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্য হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।
ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
এমএল/জেডএস
