বিজ্ঞাপন

ফটিকছড়িতে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে সিলগালা, সেই ‘সেবা ক্লিনিক’ ফের চালু

ফটিকছড়িতে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে সিলগালা, সেই ‘সেবা ক্লিনিক’ ফের চালু

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ও লাইসেন্স না থাকার কারণে সিলগালা করা ‘সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহম্মদ রশিদ চৌধুরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত। এ ছাড়া, বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চনসহ অন্যরা। 

এর আগে বুধবার (১৭ জুন) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর প্রধান অতিথি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম উদ্বোধক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নানা সমালোচনা, বিতর্ক ও স্পর্শকাতরতার কারণে ঘোষিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিতির কথা জানানো হলেও বিষয়টি নিয়ে ফটিকছড়ি সদর জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই রাতে উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার জান্নাতুল মাওয়া রনি (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকটিতে উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসা ও অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বামী রোমান উদ্দিন সে সময় স্ত্রী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছিলেন।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা দায়ী চিকিৎসককে খুঁজতে ক্লিনিকটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আত্মগোপনে যান। পরে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুদীপ্ত সরকার এবং তৎকালীন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ টি এম কামরুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জরিমানা করেন এবং ক্লিনিকটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করে দেন। এ সময় তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরেফিন আজিম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, এক সময় লাইসেন্স ও মানহীনতার অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পুনরায় চালু হলো, তা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সদরের বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পর সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এর চরম মূল্য দিতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জায়গাটি সংকুচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না।

ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতি ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত বলেন, জাঁকজমকপূর্ণভাবেই উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, ইউএনও এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও নানা কারণে তারা আসতে পারেননি। তবে সব ধরনের অনিয়ম ও অসংগতি দূর করেই আমরা প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, আগের ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনামুল হক নাবিদ/এসএএস