বিজ্ঞাপন

কেন কমছে স্মৃতিশক্তি? জেনে নিন ভুলে যাওয়ার আসল কারণ

কেন কমছে স্মৃতিশক্তি? জেনে নিন ভুলে যাওয়ার আসল কারণ

ছোটখাটো থেকে বড়সড় বিষয় ক্রমেই মাথা থেকে ছুটে যাচ্ছে। এ সমস্যার পেছনে কাজ করে অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ, কর্মক্ষেত্রের চাপ, কোভিড পরবর্তী প্রভাব কিংবা ঘুম ও পুষ্টির অভাব, বা থাইরয়েড সমস্যা— এমনই নানা কারণেই দৈনন্দিন জীবনে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব কারণে সাময়িকভাবে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমতে পারে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কী কারণে মস্তিষ্ক কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে?

এ সমস্যার পেছনে মূল কারণ নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান না করা, যা মানবদেহে পানিশূন্যতা তৈরি করে, ফলে শরীরের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মধ্যে মস্তিষ্ক অন্যতম।

পুষ্টিবিদদের মতে, মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি হচ্ছে আজকাল। তার কারণ, ডেস্কে বসে কাজ হোক বা বাইরে বাইরে ঘুরে কাজ, তাঁরা দিনভর নিজের প্রতি যত্নবান হতে পারছেন না। দীর্ঘক্ষণ যাতায়াত, অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর ঘন ঘন চা-কফির অভ্যাসের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। আর উপেক্ষিত হতে হতে শরীরে একসময় অকালবার্ধক্যের ছাপ পড়ে, নানা ধরনের মারাত্মক রোগ তৈরি হতে পারে, এমনকি অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

dhakapost

মস্তিষ্কের সঙ্গে দেহের জলশূন্যতার সম্পর্ক কী?

দেহে পানিশূন্যতার সমস্যা শুরু হলে, এমন অবস্থাতেও পুরোপুরি কোনও কাজে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা কাজের মধ্যে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। নয়তো কগনিটিভ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

পুষ্টিবিদের ভাষ্যমতে, ‘শরীরের ওজনের মাত্র দুই শতাংশ পানি কমে গেলেই তাকে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হিসাবে ধরা হয়। আর বিশেষ এই পরিস্থিতি আমাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের মতো মানসিক সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। কর্মব্যস্ত দিনে এ সমস্যার টেরই পাওয়া যায় না। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সারাদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রকৃতভাবে, পানির অভাবে দেহের কোষের স্তরে তথ্য বা সংকেত আদান-প্রদানের গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলি সচল থাকলেও তাদের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং একই কাজ করতে শরীরের অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। ঠিক এই কারণেই শরীরে তরলের মাত্রা কম থাকলে ভাবনা চিন্তা করা, মনে রাখা অথবা হিসাব-নিকাশ করার মতো কাজ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

dhakapost

এছাড়া স্মৃতিশক্তি হ্রাসের আরো কিছু কারণ রয়েছে

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কারণ থেকে শুরু করে স্মৃতিশক্তি হ্রাসে গুরুতর চিকিৎসাগত সমস্যাও রয়েছে।

১. বার্ধক্য

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটু ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ আরও ধীরে ধীরে করে, যার ফলে নাম বা ঘটনা মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, বড় ধরনের স্মৃতি সমস্যা বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক অংশ নয় এবং এটি ডিমেনশিয়া বা আলঝাইমার রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।

২. ঘুমের সমস্যা

ঘুম আপনার মস্তিষ্ককে নতুন তথ্য সঞ্চয় করতে সাহায্য করে। কম ঘুম অথবা অনিদ্রা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অবস্থা এই প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করতে পারে, যা আপনাকে দিনের বেলায় ভুলে যাওয়া এবং মনোযোগহীন করে তুলতে পারে।

৩. ভিটামিনের ঘাটতি

প্রয়োজনীয় ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি বিভ্রান্তি, কম ঘনত্ব এবং স্মৃতিশক্তির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যেহেতু বি ভিটামিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক, তাই এই ঘাটতি পূরণ করলে প্রায়শই লক্ষণগুলির উন্নতি হয়।

৪. মাথায় আঘাত

মাথায় আঘাত বা আঘাত মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে যা স্মৃতি সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য দায়ী। এমনকি ছোটখাটো আঘাতও সাময়িক স্মৃতিভ্রংশের কারণ হতে পারে, অন্যদিকে গুরুতর আঘাত দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার কারণ হতে পারে।

৫. ওষুধ

কিছু ওষুধ স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সিডেটিভ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ব্যথানাশক এবং অ্যান্টিহিস্টামাইন। যদি নতুন ওষুধ শুরু করার পরে আপনার স্মৃতিশক্তির সমস্যা শুরু হয়, তাহলে আপনার ডাক্তার আপনার প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং সমন্বয় করতে পারেন।

৬. স্নায়বিক রোগ

মস্তিষ্কের রোগ যেমন আলঝাইমার, পারকিনসন স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সবচেয়ে গুরুতর কারণগুলির মধ্যে একটি হল ডিমেনশিয়া, অথবা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস। এগুলি স্নায়ু কোষের ক্রমান্বয়ে ক্ষতি করে, যা স্মৃতিশক্তি, বিচার এবং যুক্তিকে প্রভাবিত করে।

৭. সংক্রমণ বা স্ট্রোক

মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো মস্তিষ্কের সংক্রমণ প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে, একটি স্ট্রোক যা মস্তিষ্কের কিছু অংশে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তা হঠাৎ এবং কখনও কখনও স্থায়ী স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ হতে পারে।

জেআই/এসএম