বিজ্ঞাপন

মুখের ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধ

মুখের ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটিরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। এর মধ্যে ওরাল ক্যান্সার বা মুখের ক্যান্সার অন্যতম। চলুন জেনে নিই মুখে ক্যান্সার হওয়ার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যান্সার যদি মুখ থেকে শ্বাসনালী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তবে তাকে ওরাল ক্যান্সার বলা হয়। মুখের ক্যান্সার মুখে, জিহ্বার নিচে, ঠোঁটের ভেতরের আস্তরণে, মাড়িতে, জিহ্বায় বা গালে হতে পারে। যদি শ্বাসনালীতে ক্যান্সার কোষ তৈরি হয়, তবে তাকে অরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার বলা হয়। 

বিভিন্ন ধরনের ওরাল ক্যান্সার রয়েছে, তবে সবচেয়ে সাধারণ হল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা। ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমায় ভোগেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যখন কারও মুখে ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন সাধারণত তাদের খাবার গিলতে অসুবিধা হয়। এ ছাড়াও মুখের ভেতরে ফোস্কা বা ঘা হয়। ঘাড় ও গলাতে পিণ্ড হতে পারে। মাড়ি বা দাঁতও নড়বড়ে হয়ে যায়। ঠোঁট ও জিহ্বা অসাড় হয়ে যায়। মুখের ভেতরের আস্তরণে ও জিহ্বায় সাদা এবং লাল ছোপ দেখা দিতে শুরু করে, এমনকি কণ্ঠস্বরেও পরিবর্তন আসে। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখের ক্যান্সারের জন্য ধূমপান, তামাক সেবন, মদ্যপান এবং হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)- দায়ী হতে পারে। অতিরিক্ত তামাক সেবন এবং মদ্যপানের কারণে এই রোগটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, মুখের ক্যান্সার সাধারণত ঠোঁটের ভেতরের আস্তরণ এবং মুখের অভ্যন্তরে শুরু হয়। মুখ বা ঠোঁটের কোষের ডিএনএ-তে মিউটেশন বা রূপান্তর ঘটলে মুখে ক্যান্সার হয়। এই মিউটেশনের ফলে ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বাড়ে এবং সুস্থ কোষগুলোর ধীরে ধীরে মৃত্যু হতে থাকে।

ভারতের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যান্সার জিনগত কারণে হয়ে থাকে। বাকি সব ক্যান্সার অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে  ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব।

যেসব কারণ মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকির সৃষ্টি করে, সেগুলো থেকে সক্রিয়ভাবে দূরে থাকলে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। ধূমপান, তামাক সেবন ও মদ্যপান ত্যাগ করা হলো মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। এর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা মুখের কাছ থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ দূরে রাখা ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা এবং নিয়মিত দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন।

আরএফ/এসএম