বিজ্ঞাপন

গোলটেবিল বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

দেশের ৪৯ শতাংশ পরিবার এখনো খোলা ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীল

দেশের ৪৯ শতাংশ পরিবার এখনো খোলা ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীল

দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল নিশ্চিত করতে ক্রুড ভোজ্যতেল আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্বচ্ছ ও ফুড-গ্রেড প্যাকেজিং ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সমৃদ্ধকৃত ভোজ্যতেলের ভিটামিন ‘এ’ অক্ষুণ্ন রাখতে স্বচ্ছ প্যাকেজিং পরিহার করে দ্রুত অস্বচ্ছ প্যাকেজিং চালু করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনের কনফারেন্স রুমে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল: বিশেষজ্ঞ সংলাপ’ শীর্ষক আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়।

লার্জ স্কেল ফুড ফর্টিফিকেশন–বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের কনসালট্যান্ট এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহাম্মদ ইফতিখারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংলাপে বিজ্ঞানী, গবেষক, রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।

আলোচনায় জানানো হয়, ভোজ্যতেল অধিক স্বচ্ছ করার জন্য ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পরিশোধন করলে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার প্রসঙ্গে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ন্যাশনাল নিউট্রিশনাল সার্ভেইল্যান্স জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ৫১ শতাংশ পরিবার প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল ব্যবহার করে, আর ৪৯ শতাংশ পরিবার এখনও খোলা ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীল।

ভোজ্যতেলের ভিটামিন ‘এ’ সুরক্ষায় দ্রুত অস্বচ্ছ প্যাকেজিং চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, দেশে ইতোমধ্যে অস্বচ্ছ প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধি এস. এম. আবু সাঈদ জানান, ভোজ্যতেলের প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে ফুড-গ্রেড-সংক্রান্ত সনদ প্রোডাক্ট সার্টিফিকেশন কমিটি থেকে গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হলেও ফুড-গ্রেড প্রতীক ব্যবহার এখনও বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, বিভিন্ন ধরনের তেলের মানবস্বাস্থ্যের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব রয়েছে। জীবনাচার, খাদ্যাভ্যাস এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব জনস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে আরও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুলতান আলম বলেন, ডিও ডিলাররা অনেক ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল পরিবহনে কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবহার করেন, যা শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব ড্রামে ভোজ্যতেল সরবরাহ বন্ধ করা গেলে পণ্যের গুণগত মান আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি তিনি গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে শতভাগ অস্বচ্ছ ও ফুড-গ্রেড প্যাকেজিং নিশ্চিত করা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩-এর ধারা ৮ অনুযায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশিকা জারি করা এবং ক্রুড ভোজ্যতেল আমদানির সময় বন্দর পর্যায়ে ভারী ধাতুর পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক মো. কুতুবুল আলম এবং টিকে গ্রুপের জিএম (কিউসি, কিউএ অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

এমএল/বিআরইউ