সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনে ‘ই-হেলথ কার্ড’ এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘এআই-চালিত স্বাস্থ্য অপারেটিং সিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে ডিজিটাল রোডম্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর বর্তমান সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। যার বিস্তারিত রূপরেখা নির্বাচনী ইশতেহার ও বিভিন্ন সময়ে সরকারের নীতিগত বক্তব্যে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুরো হেলথ সিস্টেমের ডিজিটাল রোডম্যাপ তৈরির বিষয়টি এখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো হুট করে নেওয়া হয়নি। গত দেড়-দুই বছর ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি ‘পার্টিসিপেটরি প্রসেস’ বা অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচনী ইশতেহার ও রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হচ্ছে, আগে যা ৫ বা ১০ বছরে হতো, এখন তা মাত্র দুই বছরেই সম্ভব হচ্ছে। বিগত দুই বছরে প্রযুক্তির এই ব্যাপক পরিবর্তনের প্রতিফলন আমাদের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ ডকুমেন্টেশনে রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, দুই বা আড়াই বছর আগেও স্বাস্থ্য খাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নিয়ে এতটা ভাবা হয়নি, যতটা গুরুত্ব এখন তৈরি হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড এবং ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনের মতো বৈপ্লবিক বিষয়গুলো এখন বাস্তবায়নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে।
সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের বেসিক হেলথকেয়ারকে (মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা) রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারি সংস্থা, এনজিও এবং অ্যাকাডেমিক রিসার্চ এই তিন পক্ষ ভিন্ন পার্সপেক্টিভ (দৃষ্টিকোণ) থেকে একই লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতীয় এই কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএল/এসএএস
