বিজ্ঞাপন

দিনে ৪০ সিগারেট খেতেন বিশাল, যেভাবে ছাড়লেন ধূমপান

দিনে ৪০ সিগারেট খেতেন বিশাল, যেভাবে ছাড়লেন ধূমপান

ধূমপান ছাড়া সহজ নয়, এ কথা প্রায় সব ধূমপায়ীই স্বীকার করেন। বিশেষ করে যাদের নিকোটিনের আসক্তি বেশি, তাদের জন্য এটি আরও কঠিন। তবে সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক বিশাল দদলানী। একসময় তিনি দিনে ৪০টিরও বেশি সিগারেট খেতেন। সিগারেট ছাড়া একটা দিন কল্পনাও করতে পারতেন না। অথচ এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ছেড়েছেন। কীভাবে এত বড় পরিবর্তন সম্ভব হলো, সেটিই জানিয়েছেন বিশাল।

সিগারেট ছাড়ার সহজ উপায় কী কী হতে পারে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করলে নানা উত্তর পাওয়া যাবে ঠিকই। তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মেনে চলা কঠিন। সিগারেট ছাড়ার পর যে অস্থিরতা শরীরে ও মনে আসে, তাকে কব্জা করাও সবার পক্ষে সহজ নয়। তবে বিশাল দদলানীর মতে, নিকোটিনের আসক্তির চেয়ে মনের জোর অনেক বেশি। যদি কেউ চান যে সিগারেট খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেবেন, তবে তা সম্ভব। অন্তত তিনি পেরেছেন। আর ধূমপান ছাড়ার পর থেকেই তার শরীরে অবিশ্বাস্য কিছু পরিবর্তন এসেছে বলেও জানিয়েছেন বিশাল।

ধূমপান ছাড়ার পরপরই কী কী পরিবর্তন আসে শরীরে?

সিগারেট, বিড়ি বা তামাকজাত দ্রব্যের সেবন বন্ধ করে দেওয়ার পর শুরুতে শরীরে নানা রকম অস্বস্তি হয়। আবার ধূমপান করার তীব্র আসক্তি জাগে, দুর্বল লাগতে থাকে ঠিকই, কিন্তু এর পরপরই কিছু পরিবর্তন আসে শরীরে। ধূমপান ছাড়ার পর থেকে রক্তে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে, অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে, হৃৎস্পন্দন সঠিকভাবে হয় ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।

৪৮ ঘণ্টা পর থেকে স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে, স্বাদ ও গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে যায়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে নিকোটিন সম্পূর্ণ বেরিয়ে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ধূমপান ছাড়ার কয়েক সপ্তাহ পর থেকে সর্দি-কাশির সমস্যা কমতে থাকে। অ্যালার্জিজনিত সমস্যাও হ্রাস পায়।

১২ সপ্তাহ পর শরীর সম্পূর্ণভাবে ‘ডিটক্স’ হয়। যারা কয়েক ধাপ সিঁড়ি উঠেই হাঁপিয়ে যেতেন বা অল্প পরিশ্রমেও ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তারা অনায়াসেই বেশি পরিশ্রম করতে পারবেন। সিঁড়িতে উঠার সময়ে শ্বাসের কষ্টও হবে না। ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে ফুসফুস, মুখ ও গলার ক্যানসার, স্ট্রোক এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) ঝুঁকি বহুগুণ কমে যাবে।

কীভাবে ধূমপান ছাড়বেন?

‘৪ডি’ থেরাপির প্রয়োগ

সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জাগলে অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর সাধারণত তীব্র ইচ্ছাটা কমে যায়। নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় এবং উদ্বেগ কমে। একগ্লাস ঠান্ডা পানি ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন। এতে তামাক সেবনের তীব্র আসক্তি সেই মুহূর্তে কিছুটা হলেও কমবে। অন্য কাজে মন দিন। পছন্দের গান শুনুন, লেখালেখি করুন বা হেঁটে আসুন। চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপানের তীব্র আসক্তি মস্তিষ্কে ৫ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী হয়, তারপর কমতে থাকে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করলে শরীর থেকে নিকোটিন বের হয়ে যায়, এতে আসক্তিও অনেকটা কমে যায়। ধূমপানের ইচ্ছা হলে মৌরি, জোয়ান বা লবঙ্গ মুখে রাখতে পারেন। তাতেও খানিকটা কাজ হয়। চা, কফি বা অ্যালকোহল প্রায়ই ধূমপানের ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহ এগুলোর নেশা কাটিয়ে উঠতে হবে।

ব্যায়াম

প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা এবং বিভিন্ন রকমের ব্যায়ামের অভ্যাসে ধূমপানের আসক্তি তো কমেই, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরে শারীরিক অস্বস্তিও কম হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার

এসএএস