দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট দূর করতে সব ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
একইসঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন শিশু হাসপাতাল স্থাপন, নারী স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শাহ আলম বীর-উত্তম অডিটোরিয়ামে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। শুধু নতুন হাসপাতাল নির্মাণ নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চমেক দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানে বিপুল সংখ্যক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে পদ পূরণ করলেই হবে না, সারা দেশে চিকিৎসক ও শিক্ষকের ঘাটতি পূরণের জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং স্বাধীনতার পর এ বছরই এই খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, রোগ প্রতিরোধেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এম এ মুহিত বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মানবিক ও ত্যাগের পেশা। ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের দক্ষতা, গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। চমেক-এ আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, ই-জার্নাল ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণের পরিবেশ উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুর রব এবং চট্টগ্রাম ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দসহ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
আতিকুল হা-মীম/এমএসএ
