ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার সুযোগ দিচ্ছে চীনের গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টার। সার্জারি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও আধুনিক রেডিওথেরাপির পাশাপাশি হাসপাতালটিতে রয়েছে প্রোটন থেরাপির সুবিধা। বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষ ছাড়ের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিকল্পনা, চিকিৎসকের পরামর্শ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হালাল খাবার, নামাজের স্থান ও বাংলা ভাষার দোভাষীর সুবিধাও রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রামের ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের সহযোগিতায় সেখানে ‘পার্টনার মিট ২০২৬’-এরও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টারের আন্তর্জাতিক মেডিকেল সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ইওয়ান ইউ এবং নার্সিং সার্ভিস বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর স্টেফাইনি হাসপাতালের চিকিৎসাসুবিধা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য বিভিন্ন সেবার বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টার ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল। রোগীর প্রয়োজন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখানে সার্জারি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও আধুনিক রেডিওথেরাপির পাশাপাশি প্রোটন থেরাপি দেওয়া হয়। হাসপাতালের প্রোটন থেরাপি সেন্টারে ভেরিয়ান প্রোবিম প্রোটন থেরাপি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
হাসপাতালটির দাবি, দক্ষিণ চীনে তাদের হাসপাতালেই এ ধরনের প্রোটন থেরাপির সুবিধা রয়েছে। প্রোটন থেরাপি রেডিয়েশন চিকিৎসার একটি উন্নত পদ্ধতি। এতে নির্দিষ্ট টিউমার এলাকায় তুলনামূলকভাবে নিখুঁতভাবে রেডিয়েশন প্রয়োগের সুযোগ থাকে এবং আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুয়াংজু কনকর্ড ক্যানসার সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টার ও মায়ো ক্লিনিকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে হাসপাতালটির বাংলাদেশে একমাত্র বিপণন অংশীদার হিসেবে সিওক হেলথকেয়ার তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে বলে জানানো হয়।
এই কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা চিকিৎসার পরিকল্পনা, সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়ের ধারণা, দূরবর্তী চিকিৎসক পরামর্শ, চিকিৎসকের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ এবং চিকিৎসা ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশি রোগীদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিষয় বিবেচনায় হাসপাতালটিতে হালাল খাবার ও হালাল রান্নাঘর, নামাজের স্থান এবং বাংলা ভাষার দোভাষীর সুবিধা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য আধুনিক পরিবেশে সমন্বিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীর চিকিৎসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধার বিষয়ে সিওক হেলথকেয়ারের তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
অনুষ্ঠানে হাসপাতাল ও সিওক হেলথকেয়ারের প্রতিনিধিরা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা, বিশেষ করে প্রোটন থেরাপি সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের সঠিক তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসা পরিকল্পনা, সম্ভাব্য ব্যয়, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সিওক হেলথকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা এম এম মাসুমুজ্জামান, সহপ্রতিষ্ঠাতা ফারহানা হাসনা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের সভাপতি মো. আবদুল আলিম রাজু উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া, সংবাদ সম্মেলন ও অংশীদার সভায় চট্টগ্রামের চিকিৎসা, মেডিকেল ট্রাভেল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, হাসপাতাল প্রতিনিধি, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এসএএস
