বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর হটস্পট সদর-বন্দর, আগস্টে আক্রান্ত ৭১০

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর হটস্পট সদর-বন্দর, আগস্টে আক্রান্ত ৭১০

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে ৭১০ জনই শনাক্ত হয়েছেন শুধু আগস্টে। যেখানে সদর ও বন্দর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন বাড়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। ফলে এখনই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আক্রান্ত ৭১০ জনের মধ্যে ১২৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

আগস্ট মাসের উপজেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ মাসে সদর উপজেলায় ২৫০ জন এবং বন্দরে ২৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া, সোনারগাঁয়ে ১০০ জন, আড়াইহাজারে ৫৩ জন এবং রূপগঞ্জে ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে এসব এলাকায় এডিস মশার বিস্তারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

বর্ষায় নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, গলি, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা বাড়ির ছাদে পানি জমে থাকে। দীর্ঘ সময় এসব পানি অপসারণ না করায় তা এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নগরবাসীর মতে, নির্দিষ্ট এলাকায় ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা জরুরি। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, পুরোনো টায়ার কিংবা ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিও নিয়মিত পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না। মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য।

নারায়ণগঞ্জের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বাড়ছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণ সচেতন হলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারেরও বিশেষ নজর রয়েছে। এ ছাড়া, আগস্টে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তা সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা না গেলে এডিস মশার ঘনত্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি ও দুর্বলতা রয়েছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মেহেদী হাসান সৈকত/এসএএস

বিজ্ঞাপন