দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাতরোগ। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারই পড়ছে আর্থিক সংকটে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো ‘ক্রমাগত দারিদ্র্যের’ মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের গবেষণায় দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময়ে কর্মক্ষমতা হারান।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষের সমান। এ ছাড়া অসংক্রামক রোগে দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ হলেও দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী বাতরোগ এখনো জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস। তিনি বলেন, বাতের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি রোগীর আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারে দ্বিগুণ আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসে ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। এতে কর্মক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি পরিবারগুলোও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংকট বাতরোগের চিকিৎসার প্রধান বাধা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, যথাসময়ে টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও জানান, পিএনআরএফআর ট্রাস্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দুস্থ রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা ও স্কলারশিপ বাবদ ১ কোটি টাকার বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের জন্য ‘সাপোর্ট সেন্টার বুথ’ ও বিশেষ ‘সার্ভিস কার্ড’ চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রিউমাটোলজি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুর ইসলাম, মো. জহিরুল ইসলাম, ড. আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।
এমএল/আরএফ
