সু চির দলের সদর দফতরে বোমা হামলা

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২১, ১২:৩৪

সু চির দলের সদর দফতরে বোমা হামলা

সেনাশাসনের অবসানের দাবিতে দেশটির লাখ লাখ মানুষ প্রায় দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করছেন

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সদর দফতরে হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) ভোরে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে এই ঘটনা ঘটে। এনএলডি’র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর থেকে দেশটির লাখ লাখ মানুষ সেনাশাসনের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন। তারা গৃহবন্দি নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চির মুক্তি এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি করছেন।

অভ্যুত্থানের পর থেকেই এনএলডির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে আছে। সর্বশেষ নির্বাচনে এনএলডি থেকে নির্বাচিত অনেক আইনপ্রণেতা এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।

এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ইয়াঙ্গুনে এনএলডির সদর দফতরে এক হামলাকারী হাত বোমা ছুড়ে মারে। এতে কার্যালয়ের একটি অংশে আগুন ধরে যায়।

সদর দফতরের দায়িত্বে থাকা এনএলডি নেতা সোয়ে উইন এএফপি’কে বলেন, ‘বোমা হামলার পর আশপাশের বাসিন্দারা কার্যালয়ে আগুন লাগার খবরটি ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে জানান। এরপর ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

‘মনে হচ্ছে পেট্রল বোমার মতো কোনো বোমায় আগুন ধরিয়ে সেটা কার্যালয়ের দিকে ছুড়ে মারে কেউ।’

তিনি বলেন, ‘বোমার আগুনে কার্যালয়ের প্রবেশপথ পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দলের অনেক নেতা এখন কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।’

হামলা কে করেছে বা কারণ কী হতে পারে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সোয়ে উইন আরও বলেন, ‘আমাদেরকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। আমরা জানি না কে এটা করেছে; তবে যেই করুক, এটা তো ভালো কাজ নয়।’

সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম কয়েকটি সপ্তাহে এনএলডি’র এই সদর দফতরকে কেন্দ্র করেই জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ-আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিক্ষোভ দমনে জান্তা সরকার দমন-পীড়ন শুরু করলে এনএলডি কার্যালয়ের বাইরে অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যাসিস্টান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) জানিয়েছে, মার্চের ২৫ তারিখ পর্যন্ত তারা ৩২০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করেছে। এসময় পর্যন্ত আটক করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষকে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর গুলিতে নিহতদের ২৫ শতাংশকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এতে সন্দেহ বাড়ছে যে, মৃত্যু নিশ্চিত করতেই বিক্ষোভকারীদের মাথা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের ৯০ শতাংশ পুরুষ। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশের বয়স ২৪ বা তার কম।

তবে জান্তা সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৬৪ জন বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ৯ সদস্য নিহত হয়েছেন।

সূত্র: এএফপি

টিএম

Link copied