ভারত করোনা টিকা রফতানি বন্ধ করায় উদ্বেগে বিশ্ব

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫২

ভারত করোনা টিকা রফতানি বন্ধ করায় উদ্বেগে বিশ্ব

অডিও শুনুন

লাগামহীনভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডোজ করোনা টিকা উপহার ও রফতানি করা ভারত এখন নিজেই ভুগছে টিকার সংকটে। চলমান গণটিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে নিতে এখন টিকা আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে।

এদিকে ভারত টিকা রফতানি বন্ধ করায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভি ভ্যাকসিন জোটের কোভ্যাক্স প্রকল্পে। দরিদ্র দেশগুলোর করোনা টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ২০২০ সালে এই প্রকল্প শুরু করেছিল ডব্লিউএইচও ও গ্যাভি।

মার্চের মাঝামাঝি থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে ভারতে; এক পর্যায়ে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ লাখ ছাড়িয়ে যায়। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ভারতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো দৈনিক সংক্রমণ ছাড়িয়েছে দুই লাখ।

গত ১৬ জানুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল ভারত। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় টিকার চাহিদাও বাড়তে থাকে। এর প্রেক্ষিতে চলতি এপ্রিল থেকে বাইরের দেশে টিকা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের সরকার।

কিন্তু জ্যামিতিক হারে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ভারতের নিজেদের টিকার মজুতেও পড়েছে টান। ফলে এখন টিকা আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির সরকার।

গণটিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে রাশিয়ার করোনা টিকা স্পুটনিক ৫ এর অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই নোভাভ্যাক টিকার অনুমোন দেওয়া হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট (এসআইআই) অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোরোনা টিকা প্রস্তুতের বিষয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার যেসব ডোজ ভারত উপহার পাঠিয়েছিল এবং রফতানি করেছিল, সেগুলো সব এসআইআইয়ের তৈরি।

কিন্তু সম্প্রতি দেশে টিকার চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকার তৈরির সরঞ্জাম ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এসআইআই এর দৈনিক উৎপাদন কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানি মালিক আদর পুনেওয়ালা।

কোভ্যাক্সের আওতায় ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে ২ হাজার কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ডব্লিউএইচও; এই টিকার অর্ধেক যোগান দেওয়ার কথা ছিল সেরামের। এর মধ্যে আগামী মে মাসের মধ্যে কোভ্যাক্সে ১০ কোটি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল সেরাম ইন্সটিটিউট।

কিন্তু কোভ্যাক্স সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ পর্যন্ত কোভ্যাক্সে ২০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা পাঠাতে পেরেছে সেরাম এবং এই ডোজগুলো ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে। মে মাসের মধ্যে যদি বাকি ৮০ লাখ ডোজ টিকা না পাঠানো হয় তাহলে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলো সহ প্রায় ৬০ টি দেশে টিকাদান কর্মসূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

কোভ্যাক্সের উদ্যোক্তা সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি ভ্যাকসিন জোট অবশ্য আশা করছে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এক ইমেইল বার্তায় গ্যাভি ভ্যাকসিন জোট বলেছে, ‘আমরা বুঝতে পারছি, ভারতে বর্তমানে সংক্রমণের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে, কিন্তু তারপরও আমরা আশা করছি, এসআইআই আমাদেরকে যতদ্রুত সম্ভব টিকার চালান পাঠাবে।’  

সূত্র: রয়টার্স

এসএমডব্লিউ

Link copied