বিজ্ঞাপন

এপস্টেইন বিলে স্বাক্ষর ট্রাম্পের, কী আছে সেই ফাইলে?

অ+
অ-
এপস্টেইন বিলে স্বাক্ষর ট্রাম্পের, কী আছে সেই ফাইলে?

বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম বড় যৌন কেলেঙ্কারি এটি। অপরাধের কালো ইতিহাস ফাইলবদ্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ‘জেফ্রি এপস্টেইন ফাইল’ এ বার প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায়।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট— উভয় কক্ষে এ সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পর অবশেষে গতকাল তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সেই ফাইল প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাটরা এই ফাইল প্রকাশ করার ব্যাপারে চাপ দিচ্ছিলেন। সরব ছিলেন এই কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগীরাও। এমনকি, নিজের দলের সদস্যদের বিরোধিতাও সহ্য করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। অনেক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, বহুমুখী রাজনৈতিক চাপের কাছে কার্যত নতিস্বীকার করেই বিলে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।

স্বাক্ষর করার পর অবশ্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, “সম্ভবত এই ডেমোক্র্যাটদের এবং জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সত্যতা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। কারণ আমি এপস্টেইন ফাইলগুলো প্রকাশের জন্য বিলে সই করেছি।”

বিজ্ঞাপন

কী আছে এপস্টেইন ফাইলে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় যৌন কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির নথি রয়েছে এই ফাইলে। মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইন নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন ক্যারিবিয়ানি সাগরের মার্কিন দ্বীপভূখণ্ড ভার্জিন আইল্যান্ডে। ‘লোলিটা এক্সপ্রেস’ নামের বিমানে চেপে সেখানে দেশ-বিদেশ থেকে উড়ে যেতেন বিভিন্ন অতিথি। বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত যৌনচক্র। সেখানেই নাবালিকা, শিশুদের ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। যৌনচক্রের জন্য মেয়ে কেনাবেচার কাজ চলত। সেই গোপন আস্তানায় কুকীর্তির অন্ত ছিল না।

বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টেইনের ভার্জিন আইল্যান্ডের প্রাসাদে নির্যাতনের শিকার ভার্জিনিয়া জিওফ্রে ও এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে একটি মানহানি মামলার ক্ষতিপূরণ–সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে এই মামলার নথি প্রথম সামনে আসে। সেখান থেকেই কিছু নাম প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

ফোর্বসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই নথিতে অন্তত ১৫০ জনের নাম রয়েছে, যাঁরা বিভিন্নভাবে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িত। এই জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে বিতাড়িত প্রিন্স অ্যান্ড্রু ছাড়াও এই তালিকায় যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন পপতারকা মাইকেল জ্যাকসন। এ ছাড়া বিখ্যাত মার্কিন জাদুগর ডেভিড কপারফিল্ড, মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হাইব্রিজ ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্লেন ডুবিন, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসন, আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিৎজ এবং চেইন হোটেল হায়াতের চেয়ারম্যান ও ধনকুবের থমাস প্রিজকার উল্লেখযোগ্য।

ধারণা করা হচ্ছে, এই ১৫০ জনের প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় এপস্টেইনের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন।

এক সময়ে গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিল এপস্টেইনেই সঙ্গে ট্রাম্পের। পরবর্তীকালে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধের জেরে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০০৮ সালে প্রথম এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে এপস্টেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরই ১০ আগস্ট আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন।

বিলে স্বাক্ষর হওয়ার ফলে কী হবে?

বিলে সই হওয়ার কারণে এপস্টেইন সম্পর্কিত সমস্ত ফাইল ও তথ্য এবং ২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কিত যে কোনও তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, এই বিলে স্বাক্ষর করার পরেও ট্রাম্প প্রশাসন বিস্ফোরক তথ্য জনসমক্ষে না আনার জন্যে প্রক্রিয়াগত বিলম্ব করতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক সুমার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বিলটিতে সই করার পরে তাকে অবশ্যই এটি প্রয়োগ করতে হবে এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সম্প্রতি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ট্রাম্প সম্পর্কে করা এপস্টেইনের বেশ কিছু বক্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি বক্তব্য রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে— এপস্টেইন বলেছিলেন, ‘আমিই তাকে (ট্রাম্প) পদচ্যুত করতে সক্ষম’ এবং ‘আমি জানি ডোনাল্ড কতটা নোংরা।’

এসএমডব্লিউ