মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মালি ও বুরকিনা ফাসো। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই দুই দেশের নাগরিকদের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এ দুই দেশ। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ‘পাল্টাপাল্টি’ ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা আফ্রিকান দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশ দুটি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ৩৯টি দেশের ওপর ওই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় এসব দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পারস্পরিকতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাচ্ছে, মালি প্রজাতন্ত্র সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নাগরিকদের ওপর একই শর্ত ও বিধান প্রয়োগ করবে, যা মালির নাগরিকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ত্রাওরে পৃথক এক বিবৃতিতে দেশটির নাগরিকদের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার জবাবে একই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
• যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কোন কোন দেশ?
গত ১৬ ডিসেম্বর জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় মালি ও বুরকিনা ফাসোর বাইরে আরও পাঁচটি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এসব দেশ হলো, লাওস, নাইজার, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিধারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব দেশের দুর্বল তল্লাশি ও যাচাই ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদানের সীমিত নীতি, ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের উচ্চ হার ও বহিষ্কৃত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়েছে, কোনও দেশে উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসী উপস্থিতি রয়েছে কি না, নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
মালি, বুরকিনা ফাসো ও প্রতিবেশী নাইজার বহু বছর ধরে আল-কায়েদা ও আইএসের অনুসারী সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংসতায় জর্জরিত। সহিংসতায় এসব দেশে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
শুক্রবার নাইজারও তাদের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। দেশটি মালির ও বুরকিনা ফাসোর মতোই সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। তিন দেশ মিলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবিলা ও বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করে।
নিজেদের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চাদ ৬ জুন থেকে মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ছাড় রেখেছে দেশটি। গত বছরের ৯ জুনের আগে যেসব মার্কিন নাগরিক ভিসা পেয়েছিলেন, কেবল তারাই এখন চাদে প্রবেশ করতে পারবেন।
চাদ ছিল ১২টি দেশের প্রাথমিক তালিকায়, যাদের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন গত ৯ জুন থেকে পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
• যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞায় কোন কোন দেশ প্রভাবিত?
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৯টি দেশের নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ কিংবা আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
যাদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:
• আফগানিস্তান
• বুরকিনা ফাসো
• চাদ
• ইকুয়েটোরিয়াল গিনি
• ইরিত্রিয়া
• হাইতি
• ইরান
• লাওস
• লিবিয়া
• মালি
• মিয়ানমার
• নাইজার
• কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
• সিয়েরা লিওন
• সোমালিয়া
• দক্ষিণ সুদান
• সুদান
• সিরিয়া
• ইয়েমেন
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথির অধিকারীরাও পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
• যাদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
• অ্যাঙ্গোলা
• অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা
• বেনিন
• বুরুন্ডি
• কিউবা
• ডোমিনিকা
• গ্যাবন
• গাম্বিয়া
• আইভরি কোস্ট
• মালাউই
• মৌরিতানিয়া
• নাইজেরিয়া
• সেনেগাল
• তানজানিয়া
• টোগো
• টোঙ্গা
• তুর্কমেনিস্তান
• ভেনেজুয়েলা
• জাম্বিয়া
• জিম্বাবুয়ে
• ট্রাম্প কি নির্দিষ্টভাবে আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফ্রিকার প্রতি ভিসা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই তার প্রথম প্রশাসনের মতো। সে সময় তিনি মুসলিমদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যার আওতায় সোমালিয়া, সুদান ও লিবিয়ার পাশাপাশি ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানও ছিল।
পরবর্তীতে এই তালিকায় সংশোধনী আনে ওয়াশিংটন। ওই সময় সুদানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও চাদকে যুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেসব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে, তার অধিকাংশই আফ্রিকার। নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩৯টি দেশের মধ্যে ২৬টিই আফ্রিকান।
• ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র-আফ্রিকা বাণিজ্য সম্পর্কের অবস্থা কী?
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের শুল্কনীতির আওতায় আফ্রিকার জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সুবিধাভিত্তিক আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্ট (এজিওএ) কর্মসূচি থেকে সরে এসে শুল্কভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র; যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
২০০০ সাল থেকে এজিওএর মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেত। এতে মদ থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আফ্রিকান রপ্তানি ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, এজিওএর ফলে আফ্রিকান দেশগুলোতে প্রায় তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং পরোক্ষভাবে আরও ১২ লাখ চাকরি টিকে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন করে অনুমোদন না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরে এজিওএর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন এক বছরের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কোনও উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর পরিবর্তে আফ্রিকান দেশগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে কখনও কখনও রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড় পায়।
আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্প দেশটির ‘শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানার’ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চলছে—এমন অভিযোগ করেছিলেন, যা পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘আফ্রিকানারদের’ শরণার্থী হিসেবে পুনর্বাসনে গুরুত্ব দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় তিনি বলেন, দেশটিতে কেবল শ্বেতাঙ্গদের নয়; বরং সব জনগোষ্ঠীকেই লক্ষ্য করেই অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে তিনি ট্রাম্পকে বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হন।
ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে; যাতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়। চীন বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ বিরল খনিজ উত্তোলন এবং ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে।
চলতি বছর কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও প্রতিবেশী রুয়ান্ডার মধ্যে সংঘাতে ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। ডিআরসি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে ডিআরসির পূর্বাঞ্চলে এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে।
ডিআরসিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি না দিলেও রুয়ান্ডার ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে গত ৪ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করেন। তবে শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও এম২৩-র বেসামরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
চুক্তির একটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে ডিআরসি ও রুয়ান্ডা—উভয় দেশের খনিজ ভান্ডারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। এসব খনিজের মধ্যে কোবাল্ট, তামা, লিথিয়াম ও সোনা রয়েছে।
• সহায়তা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার চিত্র কী?
২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) বন্ধ করে দেয় এবং বিদেশি সহায়তায় বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট করে। এতে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতার ওপর নির্ভরশীল বহু আফ্রিকান দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর সহায়তা সংস্থাগুলো উত্তর নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও উত্তর-পূর্ব কেনিয়ায় ক্ষুধা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা লেসোথো ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন।
উত্তর ক্যামেরুনে ওষুধ সরবরাহ কমে যাওয়ায় ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে শর্তসাপেক্ষে আগামী পাঁচ বছরে দেশটিকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার স্বাস্থ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ জন্য ক্যামেরুনকে বার্ষিক স্বাস্থ্য ব্যয় ২২ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার শর্ত বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া ২৯টি দেশের ৩০ জন পেশাদার কূটনীতিককে ট্রাম্প প্রত্যাহার করে। এতে আফ্রিকার দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ১৫ জন কর্মরত ছিলেন আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া, বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, মিসর, মাদাগাস্কার, মরিশাস, নাইজার, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সোমালিয়া ও উগান্ডায়।
এদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ (২০১৭-২০২১ সালের) মতোই আইএস ও আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশন থিঙ্কট্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে সোমালিয়ায় আল-শাবাব ও আইএস সংশ্লিষ্ট সোমালিয়ার একটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় প্রথমবারের মতো আইএস ও আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এসব হামলা নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে। তারপরও দুই দেশের মাঝে পাল্টাপাল্টি দাবি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের ‘রক্ষা’ করছে ওয়াশিংটন; যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় সব ধর্মের মানুষই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
এসএস