নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা, হতাহতে ভরে গেছে ইরানের হাসপাতালগুলো

ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হওয়ার পর শুক্রবার রাতেও রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
তবে গতকাল শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলো নিহত ও আহতে মানুষে উপচে পড়েছে।
তেহরান হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন তরুণদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হয়েছে। এছাড়া অনেকের হার্টেও গুলি করা হয়েছে।
একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে এত বেশি রোগী আসছিল যে তারা ক্রাইসিস মুডে চলে গেছেন। হতাহতের চিকিৎসা দিয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।
বিক্ষোভকারীদের পাশপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ১৪ জন বলে জানা গেছে।
লন্ডন থেকে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত দুই হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
বিবিসি ফার্সি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশতে পোরসিনা হাসপাতালে ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে। মর্গ মরদেহ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক মরদেহ অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন তারা ‘ভয়াবহ চিত্র’ দেখেছেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালে এত বেশি আহত মানুষ এসেছেন য তারা সিপিআর দেওয়ার সময়ও পাননি। হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
এমটিআই