ভারতে কোরীয় নারী পর্যটককে আচমকা জড়িয়ে ধরলেন বিমানবন্দরের কর্মী

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মীর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় এক নারী পর্যটক। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। পরিচয় প্রকাশে সম্মতি দেওয়া ওই নারীর নাম কিম সুং কিয়ং। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরের ওই কর্মী তাকে পুরুষদের শৌচাগারের কাছে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে ‘অনুচিত আচরণ’ করেন।
ওই পুরুষ কর্মীর নাম মোহাম্মদ আফান। ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কিম সুং কিয়ং বলেন, ইমিগ্রেশন যাচাই-বাছাই শেষ করে তিনি যখন কোরিয়াগামী ফ্লাইট ধরতে টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন আফান তার কাছে আসেন। তিনি বলেন, তার লাগেজ থেকে ‘বিপ বিপ’ শব্দ হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত তল্লাশির জন্য তাকে আলাদা দাঁড়াতে বলেন। বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় তিনি এতে সম্মতি দেন।
কোরীয় এই পর্যটক বলেন, তিনি আমাকে পুরুষদের শৌচাগারে আসতে বলেন এবং সেখানে কিছু অনুচিত কাজ করেন। তিনি যেভাবে আমার কাছে এসেছিলেন এবং সবকিছু ব্যাখ্যা করেছিলেন, তা খুবই পেশাদার ও অত্যন্ত গুরুতর মনে হয়েছিল। নিরাপত্তাবিধি ভঙ্গ না করার জন্য তিনি ওই কর্মীর ওপর আস্থা রেখেছিলেন বলেও জানান তিনি।
এরপর ওই পুরুষ কর্মী তার শরীর তল্লাশি করেন। কিম সুং কিয়ং বলেন, তিনি খুবই অনুচিতভাবে আমার শরীর চেপে ধরেন।
পুরুষদের শৌচাগারের দিকে যাওয়ার পথে ওই কর্মী নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখেন; যা তার কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। কিম সুং কিয়ং বলেন, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে মনে হওয়ার পর তিনি হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে ‘ধন্যবাদ’ বলেন। ওই অনানুষ্ঠানিক আলিঙ্গনেই তিনি বুঝতে পারেন, কিছু একটা ভুল হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
এরপর তিনি নিজেকে তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে নিরাপদে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমার অগ্রাধিকার ছিল নিরাপদে তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। সেটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল।
তবে তখন তার বোর্ডিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এক কর্মীর কাছে যান। ওই কর্মী তাকে বলেন, ব্যক্তিগত তল্লাশি স্বাভাবিক কোনো প্রক্রিয়া নয়। পরে এয়ারলাইনসের কর্মীরা তাকে অভিযোগ জানাতে সহায়তা করেন। এর পরপরই বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা আফানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আফানের অনৈতিকভাবে ওই নারী পর্যটককে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য দেখতে পায়। পর্যটকের অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর পুলিশ ওই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পরে সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথমবার ভারতে আসা কিম সুং কিয়ং বলেন, ওই কর্মীর গলায় এয়ারলাইনসের পরিচয়পত্র ছিল এবং তিনি ক্ষমতাবান একজন ব্যক্তি বলেই মনে হচ্ছিল। তার ইমিগ্রেশন পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, এটি কোনো প্রতারণা হতে পারে না এবং সব পদক্ষেপই জাতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে।
আফান এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটসের কর্মী। প্রতিষ্ঠানটি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড ও কার্গো সেবা প্রদান করে। ঘটনাটিকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস বলেছে, তারা আফানকে বরখাস্ত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে এই ঘটনায় তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস