ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারাই আসছেন তাদের কঠোর স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের তিনটি বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেসব ফ্লাইট আসছে সেগুলোর যাত্রীদের বাড়তি স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।
এছাড়া নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরসঙ্গে ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দরগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে তারা।
পশ্চিমবঙ্গে এ মাসের শুরুতে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর তাদের সংস্পর্শে আসা ১১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। যারা আক্রান্ত হন তাদের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রাণ হারান। পৃথিবীতে এ মুহূর্তে নিপাহ ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই।
নিপাহ ভাইরাস মূলত শূকর এবং ফল বাদুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এছাড়া নিষিদ্ধ খাবারের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষের শরীরেও এ ভাইরাস ছড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বে যে ১০টি রোগকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি নিপাহ ভাইরাস। কারণ এ রোগ মহামারিতে পরিণত হতে পারে। নিপাহ ভাইরাসের সুপ্তিকাল ৪ থেকে ১৪ দিন হয়।
যারা নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে বিভিন্ন উপস্বর্গ দিতে পারে। আবার কোনো উপস্বর্গও দেখা না যেতে পারে।
নিপাহ আক্রান্তের প্রাথমিক উপস্বর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি এবং গলা ব্যথা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনার পরিবর্তন এবং নিউমোনিয়াও দেখা যায়।
আর অবস্থা যদি গুরুতর হয় তাহলে এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হন রোগী। এটি মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
এরআগে ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার শূকর খামারির মধ্যে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়েছিল। যা পার্শ্ববর্তী সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়েছিল। সর্বপ্রথম যে গ্রামে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল সেখান থেকেই এটির নামকরণ করা হয়।
ওই সময় ১০০ মানুষ এ ভাইরাসে প্রাণ হারান। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লাখ লাখ শূকর হত্যা করা হয়। যা খামারি এবং শূকরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছিল।
এরপর বাংলাদেশে এ ভাইরাস ছড়ানো শুরু করে। ২০০১ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শতাধিক মানুষ নিপাহতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এদিকে এরআগে ২০০১ এবং ২০০৭ সালের দিকে পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি
এমটিআই