সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ হওয়ার তিন কারণ, আবার কমছেও কেন?

সম্প্রতি সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান এ ধাতুতে বিনিয়োগ করেছেন। যা এটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত সোমবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়ায়। যা ৫ হাজার ৫০০ পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। সোনার পাশাপাশি রুপা ও প্লাটিনামের দামও বেড়েছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর সবগুলোর দামই কমতে থাকে। যদিও গত বছরের তুলনায় এ বছর এসব ধাতুর দাম অনেক বেশি।
দাম বাড়ার তিন কারণ—
ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেছেন
সংবাদমাধ্যম বিবিসি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছেন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায়। কিন্তু ট্রাম্প এসব দেশকে প্রতিকূল হিসেবে দেখেন।
হার্গ্রেভেস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ ইমা ওয়াল বিবিসিকে বলেছেন, “ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করে যাচ্ছে। এতে করে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। যা সোনার দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।”
ক্যাপিটাল ইকোনোমিকসের অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও আর্থিক নীতির বিপরীতে সোনাকে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। যা এটির দাম বৃদ্ধি করেছে।
যুদ্ধ বিগ্রহও রেখেছে প্রভাব
ইউক্রেন ও গাজার যুদ্ধ সাধারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও তীব্র করেছে। এছাড়া গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের বিষয়টি সোনার দাম আকাশচুম্বি করে দিয়েছে।
এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের যে হুমকি দিয়েছেন সেটিও এতে প্রভাব ফেলেছে। কারণ তার এ হুমকির কারণে মার্কিন ডলারের দাম কমে গেছে। এতে করে বিনিয়োগকারীরা ডলারের বদলে সোনাকে বিনিয়োগের নিরাপদ বস্তু হিসেবে নিয়েছেন। গত বছর ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পর ডলারের দামে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা যায়।
ইমা ওয়াল বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন দ্বন্দ্ব, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউনের ঝুঁকিও সোনার চাহিদা বৃদ্ধি করেছে।”
বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনাকে বেঁছে নিয়েছে রিজার্ভ হিসেবে
সোনার দাম বাড়ার আরেকটি কারণ হলো বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভ হিসেবে সোনাকে বেঁছে নিয়েছে এবং এটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। তাদের বিশ্বাস এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর তাদের নির্ভরশীল থাকতে হবে না।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ইমা ওয়াল এ ব্যাপারে বলেন, “নির্দিষ্ট দেশগুলো দেখেছে রাশিয়ার যেসব ডলার সম্পদ রয়েছে সেগুলো ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলো জব্দ করেছে। এতে করে ওই দেশগুলো স্বাভাবিকভাবেই সোনাকে রিজার্ভের জন্য নিরাপদ হিসেবে দেখছে।”
এছাড়া চীন ও ইউরোপের অনেক মানুষ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সোনা কিনছেন।
বাড়ার পর দাম কমছে কেন?
বিবিসি জানিয়েছে, গত কয়েকদিন সোনার দাম বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে বাঁছাই করবেন, যিনি তার কথায় সুদের হার কমিয়ে দেবেন। এমন আশঙ্কা থেকে সোনার চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়ে যায়।
কিন্তু ট্রাম্প যখন কেভিন ওয়ার্সকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করলেন তখন বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা কেটে গেছে। কারণ অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় তাকে নিরাপদ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
আর তাকে ট্রাম্প মনোনীত করার পরই সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম কমা শুরু করে। কিন্তু এখন যে দাম আছে সেটিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
সূত্র: বিবিসি
এমটিআই