ইরানের জন্য সম্ভবত ফাঁদ পাতছেন ট্রাম্প

গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত যুদ্ধ শুরু করেছিল দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় দীর্ঘ ১২দিন যুদ্ধ হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়োত আহারোনোত জানিয়েছে, আলোচনার নামে গত বছরের মতো এবারও হয়ত ইরানের জন্য ফাঁদ পাতছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, “অব্যাহতভাবে আলোচনার আহ্বান জানালেও, ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি বৃদ্ধি করেছেন ট্রাম্প। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের মতো ইরানকে এবারও ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন তিনি।”
গত বুধবার ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকে তাদের যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর যাচ্ছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আলোচনায় ইরানকে তাদের সহায়তা করতে হবে। নয়ত গতবারের চেয়ে আরও খারাপ হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইরান হয়ত তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কিছু ছাড় দিতে পারে। কিন্তু ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না।
তারা আরও বলছে, গত বছর হামলার আগে ইরানকে ট্রাম্প একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর ওই সময় পার হওয়ার পর হামলা চালান। এবারও ট্রাম্প ইরানকে এমন সময়সীমা দেবেন, যেটি ইরান রক্ষা করতে পারবে না। এরপর তিনি হামলার নির্দেশ দেবেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরমধ্যে ১৩ জুন আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে বসে দখলদার ইসরায়েল। এরপর এতে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইরানের চারটি পারমাণবিক অবকাঠামোতে বোমা ফেলে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলেছে, “ইরান নিয়ে কি অবস্থান নেবেন তা নিয়ে ট্রাম্প নিজে হয়ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। একই সময় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির জন্য কিছু শর্ত দিচ্ছে। যারমধ্যে রয়েছে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশের হাতে তুলে দিতে হবে। ব্যালিস্টিক মিসাইল কার্যক্রম কমিয়ে ফেলতে হবে। এমনকি মিসাইলের দূরত্বও কমানোর শর্ত দেওয়া হচ্ছে। যেন এগুলো ইসরায়েলে পৌঁছাতে না পারে। এছাড়া হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েলি সূত্র ও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হয়ত পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে পারেন। কিন্তু ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে দেওয়া শর্তে কোনো ছাড় দেবেন না।
ফলে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পারমাণবিক কার্যক্রম বাদে অন্যান্য যেসব শর্ত দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কি চাপ প্রয়োগের কোনো কৌশল কি না। ট্রাম্প কি শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন কি না।
এদিকে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার একটি শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ওই সময় ইসরায়েল এর বিরোধীতা করে। দখলদাররা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, যদি এখন ছোট হামলাও চালানো হয় তাহলে ইরান শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এজন্য এখন সীমিত হামলা না চালিয়ে, প্রস্তুতি নিয়ে বড় হামলা চালানো ঠিক হবে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
এমটিআই