গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। দেশটিতে কর্মরত আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে তিনি এই শহরটিকে নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।
৫৩ বছর বয়সী সাইফের মৃত্যুর খবরটি তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান নিশ্চিত করলেও, তার মৃত্যুর সঠিক পরিস্থিতি বা এর নেপথ্যে কারা ছিল তা এখনও অস্পষ্ট।
লিবীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সাইফ আল-ইসলামের লিবিয়ায় সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না। তবে, ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি তার বাবা প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন।
২০১১ সালে লিবিয়ায় বিরোধীপক্ষের হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হন। তিনি কয়েক দশক ধরে দেশটি কঠোর হস্তে শাসন করেন।
বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি দখল করার পর লিবিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০১১ সালে সাইফ জিনতানে ধরা পড়েন এবং বন্দি হন। ২০১৭ সালে একটি সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত ভূমিকা
পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সুবক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম তার বাবার দমনমূলক শাসনের এক ‘প্রগতিশীল মুখ’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরব বসন্তের সময় যখন লিবিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তখনও তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়ব এবং এখানেই মরব।’ তিনি সে সময় সতর্ক করেছিলেন যে, লিবিয়ায় রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে এবং সরকার শেষ বুলেট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
সাইফ আল-ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবার শাসনামলে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অসংখ্য অভিযোগ ছিল। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর লিবিয়ার আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
২০১৭ সালে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রাণহানির আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘ সময় জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।
এমএআর