ডলার অতীত, ইউয়ান হবে বৈশ্বিক মুদ্রা : জিনপিং

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারে ডলারের আধিপত্য শেষ হতে চলেছে এবং একসময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মুদ্রাকে পেছনে ফেলে চীনের ইউয়ান হয়ে উঠবে বৈশ্বিক মুদ্রা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক ভাষণে এই মন্তব্য করেছেন।
গত শনিবার চীনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা কিউশি প্রেসিডেন্ট জিনপিং এর ভাষণটি প্রকাশ করেছে। ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “অর্থনৈতিকভাবে মহাশক্তিধর হতে গেলে এমন একটি মুদ্রার প্রয়োজন যার উপর বিশ্ব ভরসা রাখতে পারে এবং সেই মুদ্রার ব্যপক ব্যবহার করতে পারে। চিন এমনই একটি শক্তিশালী মুদ্রা তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।”
“আমরা ইউয়ানকে এতটাই শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে গড়ে তুলব যাতে অন্যান্য দেশ ইউয়ানকে রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহার করে।”
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জিনপিং এই বক্তব্য রেখেছিলেন ২০২৪ সালে। সেই ভাষণ এখন প্রকাশ করার নেপথ্যে বড় কূটনৈতিক চাল দেখছেন কূটনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ। তাদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব এখন অস্থিরতার চরম পর্যায়ে। মার্কিন শুল্কের জেরে নাজেহাল বেশিরভাগ দেশ। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারি দিনকে দিন বাড়ছে। মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিরোধিতা করলে ডলারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা চাপানো সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।
আমেরিকার এহেন আধিপত্য বন্ধ করতে সম্প্রতি প্রস্তাব উঠেছে ‘ব্রিকস’ মুদ্রার, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। স্পষ্টভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ভারত, চিন, রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ‘ব্রিকস’ যদি এমন কোনও মুদ্রা প্রকাশ করে তবে এই গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।
মার্কিন হুঁশিয়ারিকে নিয়ে মুখে কিছু না বললেও শোনা যাচ্ছে ডলারের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করবে ব্রিকস। এই জল্পনার মাঝেই জিনপিংয়ের এহেন মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মোটেই খুশি হবেন না তা বলাই বাহুল্য।
এসএমডব্লিউ