বাংলাদেশের সঙ্গে যেভাবে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে ভারত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর ভারত তার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে ভাবছে। তবে তারা এ ব্যাপারে ‘সতর্ক আশাবাদী’ হিসেবে আগাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপির জয়ের মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটিকে ভারত সরকারের সূত্র জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করে আসছিলেন শক্তিশালী ম্যান্ডেড নিয়ে নির্বাচিত সরকার আসলে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে স্থিতিশীলতা ও নির্ভরশীলতা আসবে। বাংলাদেশের নির্বাচনে এমন ফলাফল হওয়ার পর তাদের সেই বিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এ নির্বাচনের ফলাফল অন্তর্বর্তীকালন সরকারের স্পষ্ট সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ভারত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে নিজেদের জন্য ঝামেলাপূর্ণ হিসেবে দেখত।
সরকারি সূত্রটি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন বিলম্বিত গণতান্ত্রিক পক্রিয়া এবং সম্পর্ক খারাপের জন্য ভারতীয় জনগণ ও ভারতীয় মিডিয়াকে দোষারোপ করার জন্য।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বলেছেন, “আমাদের বিশ্বাস হলো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত ও শক্তিশালী ম্যান্ডেড পাওয়া সরকার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
এ নির্বাচনের ফলাফল ‘১৯৭১ সালের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধকেও সম্মান করে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের কথিত হত্যা ও নির্যাতনের ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং ইসলাম ও পাকিস্তানপন্থিদের সুযোগ দেওয়ার কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সুযোগ
এসবের বিপরীতে বাংলাদেশ নির্বাচিত সরকার ফেরায় এখন বাংলাদেশ-ভারতের ফাটল ধরা সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ দেখছে ভারত। এ মুহূর্তে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাদের নজর। তারেক রহমানের ব্যাপারে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন তারা তাকে নিয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’।
নয়াদিল্লি বিশ্বাস করে যে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তারেক রহমান হয়তো আরও বাস্তবসম্মত ও বিচক্ষণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পন্থা অবলম্বন করবেন।
আর এই আশাবাদের প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে। এক্সে করা এই শুভেচ্ছা বার্তায় মোদি বলেছেন তারেক রহমানের সঙ্গে ‘কথা বলে তিনি আনন্দিত’।
বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো উদ্যোগ আরও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের একটি প্রতিনিধি দলকে পাঠানো হতে পারে। এরমাধ্যমে বার্তা দেওয়া হবে বাংলাদেশের সঙ্গে তীক্ত সম্পর্ক ভুলে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় নয়াদিল্লি। এরআগে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে এসেছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ নিয়ে কৌশল খুবই স্পষ্ট: তারা গণতন্ত্রকে সমর্থন করবে, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে আবারও যুক্ত হবে এবং নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সজাগ থেকে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমটিআই