নেপালে নির্বাচন: ক্ষমতাচ্যুত অলির সঙ্গে লড়ছেন আর কারা?

জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে নেপালে কয়েক মাস আগে সরকারের পতনের পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের এই নির্বাচনে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও জেন-জিদের অনেক প্রতিনিধি এগিয়ে রয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বর তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। ওই বিক্ষোভে প্রাণ যায় ৭৭ জনের এবং আহত হন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
হিমালয়কন্যা খ্যাত এই দেশটিতে আগামী ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির ব্হুল আলোচিত এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা এবং কী কী বিষয় ঝুঁকিতে রয়েছে?
• ভোটার
নেপালের ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। তারা ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের সংসদ গঠনের জন্য ভোট দেবেন। গত বছরের বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন; যাদের বেশির ভাগই তরুণ।
নির্বাচনের ১৬৫টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে অর্থাৎ যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন তিনিই জয়ী হবেন। বাকি আসনগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে; দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী আসন বরাদ্দ পাবে।
নেপালের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে ৬৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।
• মূল চ্যালেঞ্জ ও ইস্যু
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন এবং তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি।
স্থলবেষ্টিত এই দেশটির প্রধান দুই বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও নির্বাচনের একটি বড় ফ্যাক্টর হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভারতের এবং ১৪ শতাংশ চীনের সঙ্গে হয়। এছাড়া বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম নেপালকে ১৩ কোটি ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে চীন।
• প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন দেশটির মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ৩৫ বছর বয়সী নেতা বালেন্দ্র শাহ। র্যাপার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া কাঠমান্ডুর এই সাবেক মেয়রের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে রয়েছে।
ঝাপা-৫ আসনে তার মুখোমুখি হচ্ছেন নেপালের চারবারের প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) ৭৪ বছর বয়সী নেতা কেপি শর্মা অলি। তিনি আবারও ক্ষমতার শীর্ষে ফেরার লড়াই করছেন। তবে মাত্র ছয় মাস আগে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা তরুণ ভোটারদের মন জয় করা তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের ৪৯ বছর বয়সী নেতা গগন থাপা এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ৭১ বছর বয়সী পুষ্প কমল দহল। বর্তমানে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন পুষ্প।
অলি নব্বইয়ের দশক থেকে উদারপন্থী কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচিতি পান। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে মূলধারার রাজনীতিতে আসার আগে এক দশক ধরে রক্তাক্ত মাওবাদী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পুষ্প কমল দহল।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস