ইরানে শাসকের ‘অবশ্যই পরিবর্তন ঘটেছে’ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তথাকথিত ‘শাসক পরিবর্তনের’ যুদ্ধ নয়। তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অবশ্যই পরিবর্তন ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের মঙ্গলই হয়েছে। সোমবার পেন্টাগনে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানে মার্কিন অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, এটি ইরাক যুদ্ধ নয়। এটি অনন্তকাল ধরে চলা কোনও লড়াইও নয়।
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানের সময়সীমা কতদিন হতে পারে; সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সুনির্দিষ্ট সময়কাল জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন হেগসেথ। তিনি বলেছেন, এই সামরিক অভিযানের স্থায়িত্ব কেমন হবে, তা নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সময়সীমার ব্যাপারে আমি কখনোই কোনও নির্দিষ্ট তারিখ দেব না। এই বিষয়ে সাংবাদিকরা ফের জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সময়সীমা নিয়ে কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এটি চার সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ বা ছয় সপ্তাহ; যেকোনও সময় হতে পারে। এটি সময় সাপেক্ষে এগোতে পারে আবার পিছিয়েও যেতে পারে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনও বিকল্পই নাকচ করছে না। তিনি বলেন, আমরা জয়ের জন্যই লড়াই করি।
মার্কিন চার সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করে হেগসেথ বলেন, এই ধরনের অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুরক্ষা কবচ হিসেবে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন হেগসেথ। তিনি ওবামার ওই চুক্তিকে ‘ব্যর্থ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
এসএস