ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তৃতীয় দিন, যা যা জানা যাচ্ছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার একদিন পর, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোমবার তৃতীয় দিনের মতো এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা আঘাত করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
ইরানের পরিস্থিতি
• তেহরানে হামলা ও প্রাণহানি : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ (Mehr) জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের নিলুফার স্কয়ারে একটি ভয়াবহ হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, জনাকীর্ণ এই এলাকায় আকাশপথে চালানো হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
• ৪৮ ইরানি নেতার মৃত্যুর দাবি : রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের ৪৮ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো সুনির্দিষ্ট ‘টার্গেটেড কিলিং’ মিশনের সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
• সানান্দাজে হামলা : ইরানের ‘ফার্স’ (Fars) নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর সানান্দাজে ‘শত্রু বাহিনীর’ হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানের বাইরেও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো এখন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
• অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান : সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্যানবেরা (অস্ট্রেলিয়া সরকার) ইরানবিরোধী এই মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। পশ্চিমা মিত্র হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া এই মুহূর্তে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকার নীতি গ্রহণ করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিস্থিতি
সোমবার সকাল থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিস্ফোরণ এবং আকাশপথে হামলার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অবস্থা
• বিস্ফোরণের শব্দ : সোমবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
• কাতারের প্রতিরক্ষা কৌশল : কাতার শুরুতে তাদের আকাশসীমায় আসা মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করতে ‘প্যাট্রিয়ট’ ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করছিল। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন তারা উপসাগরের পানির ওপরই এগুলোকে ধ্বংস করার জন্য সরাসরি ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
• জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত : কাতার নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জ্বালানি সংশ্লিষ্ট (Energy sites) স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
• বিমান চলাচল বন্ধ : উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কাতারের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘কাতার এয়ারওয়েজ’ তাদের সকল ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে এবং দেশটির আকাশসীমা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
ওমানে তেল ট্যাঙ্কারে হামলা
• তেল ট্যাঙ্কারে হামলা : ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, মাস্কাট উপকূল থেকে ৫২ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘MKD VYOM’ নামক একটি তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরকবাহী বোটের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত একজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
কুয়েত মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী
• আকাশপথে অনুপ্রবেশ : কুয়েতি সেনাবাহিনী সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভোরের দিকে দেশের মধ্যাঞ্চলে বেশ কিছু ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
• মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া : বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
• শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতি : কুয়েত সিটির কাছে ‘মিনা আল-আহমাদি’ শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক সামান্য আহত হয়েছেন।
• বিমান বিধ্বস্ত : আল-জাজিরা দ্বারা যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, কুয়েত সিটি থেকে ৩২ কিলোমিটার পশ্চিমে আল-জাহরা শহরে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
বাহরাইন বন্দরে হামলা
• বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলা : বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় মানামার ‘মিনা সালমান’ বন্দরের কাছে একটি সামুদ্রিক স্থাপনায় ইরান হামলা চালিয়েছে। সোমবার তারা আরও জানায়, প্রতিহত করা একটি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে থাকা একটি ‘বিদেশি জাহাজে’ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে।
• সতর্কবার্তা : বাহরাইন সরকার বর্তমানে দেশজুড়ে ‘এয়ার রেইড অ্যালার্ট’ (বিমান হামলার সতর্কতা) জারি করেছে এবং নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলে নতুন করে হামলা
• মিসাইল বৃষ্টি : ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আরও বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
• প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা : ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defences) বর্তমানে পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা এই মিসাইলগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস বা প্রতিহত (Intercept) করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া
• প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) সংবাদ সম্মেলন করে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং বিধ্বংসী পদ্ধতিতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান কোনোভাবেই ‘অনন্ত যুদ্ধে’ রূপ নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের হামলায় মার্কিন চার সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করে হেগসেথ বলেন, এই ধরনের অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ওয়াশিংটন আশা করে, ইরানি জনগণ এই অবিশ্বাস্য সুযোগ (ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মত্যু) কাজে লাগাবে।’ তিনি ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, “প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘এখনই আপনাদের সময়’’।”
সংবাদ সম্মেলনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।’ তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুরক্ষাকবচ হিসেবে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিযোগ করেন তিনি।
হেগসেথ বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, নৌ-সম্পদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা।
• মার্কিন সেনা নিহতের খবর : গত রোববার মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ইরানে চলমান অভিযানে তাদের তিনজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা।
• ট্রাম্পের প্রতিশোধের অঙ্গীকার : ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি নিহত তিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং একইসাথে সতর্ক করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
• অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা : ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে এই সম্মুখ যুদ্ধ বা ‘কমব্যাট অপারেশন’ পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে।
আঞ্চলিক বিস্তার : লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে যুদ্ধের ভয়াবহতা
ইরানের ওপর চলমান হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর প্রভাব অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে—
লেবানন : বৈরুতে ব্যাপক হতাহত
• ইসরায়েলি বিমান হামলা : লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর (NNA) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি এবং দেশটির দক্ষিণ অংশে জোরালো হামলা চালিয়েছে।
• ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি : রাজধানীর উপকণ্ঠে চালানো এই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের দক্ষিণ অংশে আরও ১১ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
• হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাব : আল-জাজিরা অ্যারাবিক জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর ইসরায়েল প্রতিশোধমূলকভাবে বৈরুতের জনবহুল এলাকাগুলোতে এই আক্রমণ চালায়।
সিরিয়া : দামেস্কের কাছে ক্ষয়ক্ষতি
• ইরানি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ : সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা (SANA) জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দামেস্কের নিকটবর্তী ‘আইন তেরমা’ নামক শহরে আছড়ে পড়েছে। এই ঘটনায় এক ব্যক্তি এবং তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো মিসাইলকে মাঝপথে ধ্বংস করলে তার জ্বলন্ত অবশিষ্টাংশ জনপদে পড়ে এমন দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে।
জর্ডান : আতঙ্ক ও আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা
• সাইরেন ও বিমান বিধ্বস্তের খবর : জর্ডানের উপকূলীয় শহর আকাবায় বিকট শব্দে সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। জর্ডান থেকে অপুষ্ট সংবাদ পাওয়া গেছে যে, সেখানে একটি মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন।
• আকাশপথ বন্ধ : জর্ডানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশটির আকাশসীমা সকল প্রকার বিমানের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাইপ্রাস : ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আঁচ এখন ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস পর্যন্ত পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ফলে সেখানে থাকা ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো এখন সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
• যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা ও মার্কিন অনুরোধ : গতকাল রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অনুরোধে তিনি সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এই ঘাঁটিগুলো মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আসা পাল্টা বা প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলা প্রতিহত করার জন্য অর্থাৎ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
• সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব : উল্লেখ্য যে, সাইপ্রাস দ্বীপে যুক্তরাজ্যের দুটি নিজস্ব সামরিক এলাকা (Sovereign Base Areas - SBAs) রয়েছে। একটি হলো— আক্রোতিরি (Akrotiri) এবং অন্যটি দেকেলিয়া (Dhekelia)। আইনগতভাবে এই অঞ্চলগুলো সাইপ্রাসের ভেতর অবস্থিত হলেও এগুলো সম্পূর্ণ ব্রিটিশ মালিকানাধীন ভূখণ্ড এবং যুক্তরাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
• আক্রোতিরি ঘাঁটিতে হামলা : সোমবার মধ্যরাতের ঠিক পরেই একটি ‘শাহেদ’ (Shahed) আত্মঘাতী ড্রোন আক্রোতিরি-তে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) ঘাঁটিতে আঘাত হানে। যুক্তরাজ্য এবং সাইপ্রাস উভয় পক্ষই এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ‘সীমিত’ বা সামান্য।
সূত্র : আল-জাজিরা।
এমএআর/