হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে ৯০ শতাংশ

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করার সময় ইরানের হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় অধিকাংশ তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এখন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলছে।
জ্বালানি বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ভরটেক্সা ও কেপলারের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভরটেক্সার কর্মকর্তা ক্লেয়ার জংম্যান বলেছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ২৪টি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।
তবে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার বিবিসি ভেরিফাইকে বলেছে, গত ২১ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির গড়ের তুলনায় ২ ও ৩ মার্চ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বড় বড় সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের জন্য যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমা সুবিধা প্রত্যাহার বা বাতিল করায় ওই পথ দিয়ে যাতায়াত এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই নৌপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা। তবে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার বলেছে, ঝুঁকি নিয়েই কিছু জাহাজ এখনও চলাচল করছে।
কেপলারের প্রধান ফ্রেইট অ্যানালিস্ট ম্যাট রাইট সামুদ্রিক যান চলাচল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (এআইএস) প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘অন্যান্য অনেক ধরনের নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমে যাতায়াত করছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জাহাজ তাদের এআইএস ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ রেখেই (ব্ল্যাকআউট) এই যাত্রা সম্পন্ন করছে।’’
গত ২৪ ঘণ্টায় বিবিসি ভেরিফাই অন্তত দুটি কার্গো জাহাজ শনাক্ত করেছে। জাহাজ দুটির ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, সেগুলো পূর্ব থেকে পশ্চিমে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
সম্প্রতি ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের পতাকাবাহী জাহাজের অনবোর্ড ট্র্যাকারের সংকেত হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে অথবা সেগুলো জ্যামিং বা বিকল করে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সূত্র: এএফপি।
এসএস