‘লিবিয়া’ না ‘ইরাক’, কোন মডেলে ইরানের ক্ষমতা দখল করতে চান ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ, আর সেই রণক্ষেত্রে নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলার পর হোয়াইট হাউস থেকে দাবি করা হচ্ছে— এই যুদ্ধ কেবল ইরানি জনগণের ‘স্বাধীনতার’ জন্য। কিন্তু রাজনীতির অন্দরমহলের খবর ভিন্ন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য কেবল বোমাবর্ষণ নয়, বরং তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমূলে পতন ঘটানো।
তবে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ট্রাম্প কোন পথে হাঁটবেন, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তিনি কি ২০০৩ সালের ইরাক মডেল অনুসরণ করে সরাসরি পদাতিক সৈন্য নামিয়ে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াবেন? নাকি ২০১১ সালের লিবিয়া মডেলের মতো শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে স্থানীয় বিদ্রোহীদের ওপর সরকার পতনের দায়ভার ছেড়ে দেবেন? একদিকে মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব, আর অন্যদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক কাঠামো— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের ‘এয়ার পাওয়ার’ বা আকাশপথের শক্তির মোহ কি সফল হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক অন্তহীন চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে?
আল-জাজিরায় প্রকাশিত লেবানিজ লেখক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আলী হারবের এই বিশেষ বিশ্লেষণটি ঢাকা পোস্টের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি কেবল ইরানি জনগণের জন্য ‘স্বাধীনতা’ চান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাবি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের ঘোষিত অন্যান্য লক্ষ্যগুলোর আড়ালে ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য হলো তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানিদের ‘স্বাধীনতার’ ডাক দিলেও বিশ্লেষকরা একে দেখছেন তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার কৌশল হিসেবে। তবে লিবিয়ার উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধু আকাশপথের শক্তিতে ভবন ধ্বংস করা সম্ভব হলেও সরকার পরিবর্তন করা কঠিন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটো বিমান হামলা চালালেও শাসনব্যবস্থা পতনে মূল ভূমিকা ছিল স্থানীয় বিদ্রোহীদের। ইরানে এই মুহূর্তে এমন কোনো সুসংগঠিত বিদ্রোহী শক্তি না থাকায় ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে
থিংক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো আল জাজিরাকে বলেন, ‘সরাসরি পদাতিক সৈন্য (troops on the ground) পাঠানো ছাড়া এমন আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে।’
গ্রিকো আরও যোগ করেন, ‘মনে হচ্ছে তারা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু চড়া মাশুল দিতে রাজি নয়। তাই হয়তো তারা কিছু মাধ্যমিক লক্ষ্য (secondary goals) নির্ধারণ করে রেখেছে, যা শুধু আকাশপথের শক্তিতে অর্জিত হলেই তারা সন্তুষ্ট থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে বলেছিলেন যে তাদের ‘স্বাধীনতার মুহূর্ত’ এখন নাগালের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা আপনাদের সরকারের দায়িত্ব বুঝে নিন। এটি দখল করা এখন আপনাদের কাজ।’ তার এই বক্তব্য স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায়।
তবে ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর নির্বাহী সহ-সভাপতি ম্যাথিউ ডাস জোর দিয়ে বলেন যে, শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ডাস বলেন, ‘আপনি ভবন ধ্বংস করতে পারেন, আপনি সরকারের ক্ষতি করতে পারেন; কিন্তু শুধু বিমান শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো নজির আমাদের কাছে নেই।’ উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন বিমান অভিযান মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারলেও, মূলত লিবিয়ার বিদ্রোহীরাই স্থলভাগে অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।
ট্রাম্প এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠার আহ্বান জানালেও, এখন পর্যন্ত ইরানের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার মোকাবিলা করার মতো শক্তিশালী কোনো শক্তি সেখানে দৃশ্যমান নয়।
সরাসরি কি পদাতিক সৈন্য অভিযান
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি পদাতিক সৈন্য (ground troops) পাঠানোর পথ খোলা রেখেছে, তবে এমন পদক্ষেপ মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেবে। এটি ট্রাম্পের সেই পুরনো নীতিরও পরিপন্থী হবে, যেখানে তিনি সবসময় সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়ে এসেছেন।
ম্যাথিউ ডাস বলেন, ‘ইরানে কোনো আমেরিকান পদাতিক সৈন্য না থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধ এখনই জনগণের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ (২৫%) আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। ডাস বর্তমান এই সংঘাতের সঙ্গে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের তুলনা করে দেখান যে, বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী তখন ৫৫ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিকের সমর্থন ছিল।
ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকলেও ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৫ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। ট্রাম্প সবসময় সংক্ষিপ্ত অভিযানের কথা বললেও, সিনেটরদের আশঙ্কা— প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে শেষ পর্যন্ত বিপজ্জনক স্থল অভিযান বা ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে। আর মার্কিন সৈন্য সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে এই নড়বড়ে জনসমর্থন আরও তলানিতে নামার ঝুঁকি রয়েছে
ডাস আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার ধারণা যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বিশেষ করে যদি মার্কিন সৈন্য পাঠানো হয়, তবে এই জনসমর্থন আরও দ্রুত কমে যাবে।’
গত মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গোপনীয় শুনানির পর সাংবাদিকদের জানান, তিনি আশঙ্কা করছেন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানের দিকেই এগোচ্ছে।
ব্লুমেন্থাল বলেন, ‘এই ব্রিফিংয়ের পর আমি আগের চেয়েও বেশি আতঙ্কিত যে আমরা হয়তো সরাসরি পদাতিক সৈন্য পাঠাতে যাচ্ছি। প্রশাসনের যে লক্ষ্যগুলো রয়েছে, তা অর্জনের জন্য হয়তো মার্কিন সৈন্য পাঠানো অপরিহার্য হয়ে পড়বে।’
অন্যান্য লক্ষ্যসমূহ
গত কয়েক দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেয়ে কিছুটা সীমিত বা পরিমিত লক্ষ্য ব্যক্ত করেছেন। এগুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক ও ড্রোন কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা।
রুবিও যুক্তি দিয়েছেন যে, ইরান একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার গড়ে তুলছিল যাতে তারা বিদেশি আক্রমণ থেকে ‘সুরক্ষা’ ও ‘প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ পায়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেবে।
অন্যদিকে হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানে এই বোমা হামলা কোনো ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ (forever war) পরিণত হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যেন লক্ষ্য অর্জিত হয়। তবে আমরা বাস্তববাদী— প্রেসিডেন্টের মতো আমরাও অতীতের সেই নির্বোধ নীতিগুলো সম্পর্কে সচেতন যা আমাদের লক্ষ্যহীনভাবে কোনো কিছুর গভীরে টেনে নিয়ে যেত।’
তবে গ্রিকো লক্ষ্য করেছেন যে, খোদ ট্রাম্পের নিজের লক্ষ্যগুলো এখনও অস্পষ্ট। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সবকিছুর উদ্দেশ্য কী? আমরা আসলে কী অর্জন করতে চাইছি? এই বিষয়ে প্রশাসনের কোনো সুসংগত বক্তব্য বা বার্তা নেই, যা তাদের জন্য নেতিবাচক হচ্ছে।’
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ব্রিফিং শেষে একই ধরনের মূল্যায়ন করেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি খারাপ। আপনাদের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।’
ওয়ারেন আরও বলেন, ‘ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই অবৈধ যুদ্ধ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে এবং আমাদের দেশের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছাড়াই এটি চালু করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই যুদ্ধের একটি স্পষ্ট কারণও দেখাতে পারেননি এবং মনে হচ্ছে এটি শেষ করারও কোনো পরিকল্পনা তার নেই।’
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
পরে এই সংঘাত দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানও পাল্টা আঘাত হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চড়াও হয় এবং মার্কিন সম্পদসহ জ্বালানি ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তেহরান থেকে ইসরায়েল অভিমুখেও বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধকে ‘কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরদের মতে, এই যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রস্থানের পরিকল্পনা (exit plan) নেই। একদিকে ট্রাম্প ‘এয়ার পাওয়ার’-এর মোহে আচ্ছন্ন, অন্যদিকে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে এক অনির্দিষ্ট রক্তপাতের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত
ইরাকের ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোও এই যুদ্ধে যোগ দিয়ে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এছাড়া ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে— এমন খবরের মধ্যে হিজবুল্লাহও এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ নাকি ‘আরও দীর্ঘ সময়’
পেন্টাগন প্রধান হেগসেথ এই যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালীন নয় বলে দাবি করলেও, সংঘাতের সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বা নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সময়ের চেয়েও এগিয়ে আছে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যে, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ কিংবা ‘আরও দীর্ঘ সময়’ স্থায়ী হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিত্ররা ইতোমধ্যে এই যুদ্ধকে সফল হিসেবে প্রচার করছেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে, ইরানি শাসনব্যবস্থা শিগগিরই ভেঙে পড়বে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাইনি, কিন্তু আমার মতে, ইরানের এই সন্ত্রাসী সরকারের পতন এখন আর ‘যদি’র ওপর নির্ভর করছে না— এটি এখন কেবল ‘সময়ের’ ব্যাপার।”
গ্রাহাম আরও বলেন, ইরানি শাসনের পতনের পর ‘শান্তির যে দ্বার উন্মোচিত হবে’ এবং ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হবে, তা এই অঞ্চলকে ‘সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার এক নতুন স্তরে’ নিয়ে যাবে।
তবে ম্যাথিউ ডাস মনে করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন; কারণ ট্রাম্প ‘এখনও স্পষ্ট করেননি যে তার প্রকৃত লক্ষ্যগুলো আসলে কী।’
ডাস বলেন, ‘লক্ষ্যগুলোই যদি পরিষ্কার না থাকে, তবে আমরা সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি না পিছিয়ে, তা বিচার করা অসম্ভব। এটাই মূল সমস্যা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই যুদ্ধ কেন প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়ে তারা কোনো যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করার প্রয়োজন বোধ করেনি। এমনকি তারা কী অর্জন করতে চায় এবং কীভাবে বা কখন তা শেষ হবে, সেটিও বুঝিয়ে বলেনি। ফলে আমাদের সামনে এখন কেবলই এই রক্তপাত দৃশ্যমান।’
যুদ্ধের বয়স মাত্র এক সপ্তাহ হতে চললেও এটি এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। অথচ ট্রাম্প সবসময় দ্রুত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের (যেমন: জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ বা জুনে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা) জন্য গর্ব বোধ করেন।
ট্রাম্প সম্পর্কে গ্রিকোর শেষ মন্তব্য ছিল— ‘আমার মনে হয় সমস্যাটা হলো, তিনি আকাশপথের শক্তির (air power) ওপর অতিরিক্ত মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন এবং এটি দিয়ে কী কী সম্ভব, সে সম্পর্কে তার ধারণা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়।’
এমএআর/