মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত : লেবানিজ প্রবাসীদের স্মৃতিতে ফিরছে শৈশবের বিভীষিকা

লেবাননের ১৯৭৫-৯০ সালের সেই রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় যারা বড় হয়েছেন এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন জীবন গড়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান হামলাগুলো তাদের দীর্ঘদিনের দাফন করা মানসিক ক্ষত বা ‘ট্রমা’কে আবারও খুঁচিয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুবাইয়ের এক বাসিন্দা সিএনএন-কে জানান, ইসরায়েলি হামলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তিনি বৈরুতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আতঙ্কে তিনি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৮২ সালের সেই ভয়াবহতা দেখেছি। আমার পক্ষে দ্বিতীয়বার সেই নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার শৈশবের স্মৃতি কোনো খেলার মাঠের আনন্দ ছিল না, বরং বাঙ্কারের ভেতরে দম বন্ধ করা পরিবেশে কান ফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ শোনার স্মৃতি।’
বর্তমানে বৈরুতে আটকে পড়া এই নারী যত দ্রুত সম্ভব দুবাই ফিরতে চাইছেন।
রামা নামের আরেকজন প্রবাসীর গল্পটাও একই রকম। তিনিও বড় হয়েছেন বৈরুতের বোমা আর অবিরাম গোলাগুলির বিভীষিকার মধ্যে। দুই সপ্তাহ আগে দুবাইয়ে যখন যুদ্ধের প্রথম বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, তখনই তিনি প্রথম টের পান শৈশবের সেই ক্ষতগুলো আসলে মুছে যায়নি।
বিজ্ঞাপন
রামা বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দ শোনামাত্র আমার শরীর কেমন এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখাল। বুক ধড়ফড়ানি, তীব্র অনিদ্রা আর বাইরে বের হওয়ার ভয়ে আমি কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। ২৫ বছর ধরে বিদেশে শান্তিতে থাকার পর আমি ভেবেছিলাম আমি সেই অতীত জয় করেছি। কিন্তু সেই চেনা মৃত্যুঘণ্টা বেজে উঠতেই বুঝলাম, সেই পুরনো ট্রমাগুলো আমার ভেতরে বিষফোঁড়ার মতো জমাট বেঁধে ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদিও জানি আমি আরব আমিরাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবুও সেই শৈশবের আবেগগুলো আমাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে।’
রামা আপাতত দুবাইতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রখ্যাত লেবানিজ-আমেরিকান কবি খলিল জিবরানের একটি চিরন্তন উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যে ভূমি তোমাকে সম্মান দেয়, সেটিই তোমার স্বদেশ।’
বিজ্ঞাপন
সূত্র : সিএনএন।
এমএআর/