কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত : নিহত বেড়ে ৬৬, এখনও নিখোঁজ ৪

কলম্বিয়ায় সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৬৬ জনে এবং এখনও অন্তত ৪ জন নিখোঁজ আছেন। নিজেদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
বিজ্ঞাপন
গতকাল সোমবার কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগ পুতোমায়ো প্রদেশের পুয়ের্তো লেগুইজামা শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ কার্গো পরিবহন উড়োজাহাজ। বিমানটি মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি। উড্ডয়নের পর ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার ওপরে ওঠার পরেই মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি এবং বিস্ফোরিত হয়।
কলম্বিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল হুগো আলেজান্দ্রো লোপেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ সময় উড়োজাহাজটিতে চালক-সহ মোট ১২৮ জন যাত্রীদের ছিলেন। এই যাত্রীদের মধ্যে ১১ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১১৫ জন স্থলবাহিনীর সদস্য এবং কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশ বাহিনীর ২ জন কর্মকর্তা। কলম্বিয়ার পুতোমায়ো প্রদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ পেরুর সীমান্ত আছে। সামরিক বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেই সীমান্তের কাছে। পুয়ের্তো লেগুইজামা শহরের নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে নগর প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
বিজ্ঞাপন
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সবার আগে উদ্ধার তৎপরতায় সবার আগে এগিয়ে এসেছিলেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তারা এগিয়ে আসেন। বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, আহত সেনাদের উদ্ধার করে মোটসাইকেলে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে ফায়ারসার্ভিস মুখপাত্র এদুয়ার্দো সান জুয়ান ক্যালেজাস কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যম কারাকোলকে জানান, তারা ধারণা করছেন যে উড্ডয়নের সময় বিমানটিতে সম্ভবত কিছু যান্ত্রিক গন্ডগোল হয়েছিল, যে কারণে সেটি উড্ডয়নের কিছু সময় পরেই বিধ্বস্ত হয়ে আছড়ে পড়ে। মাটিতে পড়ার সময় সেটি একটি গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। বিমানটিতে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি কিছু বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু ছিল বলেও ধারণা করছে ফায়ারসার্ভিস।
কলম্বিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল লোপেজ জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে এ পর্যন্ত ৫৭ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই আহত এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই ৫৭ জনের মধ্যে ৩০ জনের আঘাত গুরুতর নয়।
বিজ্ঞাপন
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ দুর্ঘটনার জন্য কলম্বিয়ার আমলাতন্ত্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত একাধিকবার দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক করার উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে সেসব উদ্যোগ।
“আমি আর বিলম্ব সহ্য করব না। এখন আমাদের তরুণ-তরুণীদের জীবন-মরণের প্রশ্ন। যেসব সামরিক-বেসামরিক প্রশসানের কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক করার চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী নন, তাদের অবশ্যই বিদায় জানানো হবে”, এক্সবার্তায় বলেছেন প্রেসিডেন্ট পেত্রো।
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ