‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা কাতার এনার্জির, ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটা দীর্ঘমেয়াদী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে অপরাগতা) ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি। এর ফলে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনসহ বেশ কিছু দেশে কাতার এনার্জির জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের জেরে মঙ্গলবার কাতার এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ হলো চুক্তির এমন একটি ধারা, যা কোনও পক্ষকে অভাবনীয় ও নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির কারণে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ থেকে অব্যাহতি দেয়। সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পাল্টায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথ বন্ধ হওয়া এবং ক্রমাগত হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানি হামলায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে; যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-কাবি বলেন, কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের (গ্যাস তরলীকরণের যন্ত্র) মধ্যে দুটি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইড স্থাপনার একটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং মেরামত কাজ শেষ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে বার্ষিক ১ কোটি ২৮ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন ব্যাহত হবে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের দক্ষিণ বুশেহর প্রদেশের উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্সে’ ইসরায়েলি হামলার পরপরই রাস লাফানে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সাউথ পার্সে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের এই গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারের নর্থ ফিল্ডের বর্ধিত অংশ।
এক বিবৃতিতে আল-আনসারি বলেছেন, বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ। জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি এই অঞ্চলের জনজীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো ওই অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের ক্রমাগত হামলারও নিন্দা জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস