যুদ্ধবিরতির জন্য যেসব শর্ত নির্ধারণ করেছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য কিছু শর্ত ইতোমধ্যে নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
বিজ্ঞাপন
ইরানের এই শর্তগুলো হলো— ক) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, খ) হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, গ)যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে ভবিষ্যতে ইরানকে লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা হবে না, ঘ) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এসব শর্ত-কে দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি কঠোর দর কষাকষির মনোভাবের ‘প্রতিফলন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। আরও বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ইরান ‘বড় ধরনের ছাড়’ চাইছে।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধবিরতির জন্য ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে ১৫টি পয়েন্ট বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যেই ইরানের শর্তগুলো প্রকাশ করল রয়টার্স।
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ