যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলো ইরান

পাকিস্তানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। বুধবার দেশটির জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তান অথবা তুরস্কের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরান প্রকাশ্যে কোনও আলোচনার খবর অস্বীকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করবে না বলে জানালেও পর্দার আড়ালে তারা কূটনৈতিক প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানের কাছ থেকে মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ করা সেটিরই বিরল লক্ষণ।
পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত কিংবা এটি আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ১৫ দফার মার্কিন রূপরেখা কি না, তা ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেনি। তবে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কও সহায়তা করেছে এবং আলোচনার ভেন্যু হিসেবে তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের নাম তালিকায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে; এমন খবরের পর বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার তিনটি সূত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা পরিষদকে এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তারা বলেছেন, এই প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার শর্ত রয়েছে।
এদিকে, পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের সামনে স্থল অভিযানের বিকল্প পথ খোলা রাখার লক্ষ্যে ওই সৈন্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রয়টার্সকে একাধিক সূত্র বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই কন্টিনজেন্ট মেরিন সেনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বিশাল উভচর হামলাকারী জাহাজে থাকা প্রথম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটটি চলতি মাসের শেষের দিকে সেখানে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞাপন
• ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয় : ইরানের সামরিক বাহিনী
ইরানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান চলতি সপ্তাহেই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারুন আরমাগান বুধবার রয়টার্সকে বলেছেন, আঙ্কারাও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়ে সম্মতি জানায়নি ইরান। বরং আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্রমাগত কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছে তেহরান।
ইরানের সামরিক কমান্ডের শীর্ষ মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করে বলেছেন, ‘‘আপনার অভ্যন্তরীণ লড়াই কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি নিজেই নিজের সাথে আলোচনা করছেন?’’
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মতো মানুষ আপনার মতো মানুষের সঙ্গে কখনোই এক হতে পারে না। আমরা আগেও বলেছি, আমাদের কেউ আপনাদের সঙ্গে চুক্তি করবে না। এখন তো নয়ই, কখনও না।’’
ভারতের একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ট্রাম্প যখন হামলা চালান তখন পরমাণু আলোচনা চলছিল। একে তিনি কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে আলোচনা নিরর্থক।
তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও আলোচনা বা সমঝোতা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের দাবির বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। বর্তমানে আমাদের বীর সেনাবাহিনী এই নৃশংস ও অবৈধ যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরানের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোনিবেশ করছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান এই শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে ইসরায়েল সন্দিহান। এই শর্তগুলো কেবল আলোচনার শুরু এবং আলোচনার এক পর্যায়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা হয়তো ইরানকে বিভিন্ন ছাড় দিতে পারেন। এই ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল উদ্বিগ্ন।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস