ইরান ‘সব সীমা অতিক্রম করেছে’: জিসিসি প্রধান

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ইরান সব ধরনের সীমা অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জিসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এক বৈঠকে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জিসিসির মহাসচিব বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে; যা সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তির লঙ্ঘন এবং আগ্রাসন। এ ছাড়া কিছু জাহাজ অপহরণ কিংবা হামলার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের অর্থনৈতিক ফুসফুস। এসব দেশ ১৬ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে; যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ। এই দেশগুলো বিশ্বে ২৭ শতাংশ তেল রপ্তানি করে; যার পরিমাণ দৈনিক ১১.৫ বিলিয়ন ব্যারেল।’’
বিজ্ঞাপন
ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলা কেবল আরেকটি উত্তেজনার সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি ইরান ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যকার পরিস্থিতি এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জিসিসির এই মহাসচিব বলেন, ‘‘ইরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং সরাসরি হামলা চালাচ্ছে।’’
তিনি বলেন, এসব হামলা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর চালানো হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো ইরানি হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
জিসিসি মহাসচিব বলেছেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো “স্পষ্টভাবে” জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণের জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
আল-বুদাইউই বলেন, জিসিসি দেশগুলো কখনোই ইরানের হামলার ‘‘জবাব বা পাল্টা হামলা চালায়নি’’ এই আশায় যে তেহরান এসব হামলা বন্ধ করবে।
জিসিসিভুক্ত সব দেশ গত কয়েক বছর ধরে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কাজ করে আসছে বলে জানান তিনি। গত বছরের জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় জিসিসিভুক্ত দেশগুলো জরুরি বৈঠক করে ওই হামলার নিন্দা এবং কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
সূত্র: আল জাজিরা।
এসএস