বিজ্ঞাপন

কয়েক সপ্তাহেই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ : মার্কো রুবিও

অ+
অ-
কয়েক সপ্তাহেই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ : মার্কো রুবিও

ইরানজুড়ে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা কয়েক মাসের মধ্যে নয়, বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অর্জিত হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে, যুদ্ধের ময়দানে ধ্বংসযজ্ঞ চললেও পর্দার আড়ালে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।

বিজ্ঞাপন

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রুবিও স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে স্পেনের মতো ন্যাটো মিত্রদের অসহযোগিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইরান যুদ্ধ, নতুন সর্বোচ্চ নেতার রহস্যময় অবস্থান এবং হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মার্কো রুবিওর সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশগুলো ঢাকা পোস্ট-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুবিও। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পর্দার আড়ালে এই প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু আছে।

বিজ্ঞাপন

 রুবিও বলেন, ‘ইরানের ভেতরকার কিছু পক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান, সরাসরি কিছু কথা হচ্ছে, যা মূলত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই ঘটছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান কয়েক মাসের বদলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সফল হবে। ইতোমধ্যে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে

তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করাকে অগ্রাধিকার দেন।

বিজ্ঞাপন

তবে, একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হালকেট জানিয়েছেন, রুবিও এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

dhakapost
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে টহল দিচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। যেকোনো মূল্যে এই আন্তর্জাতিক জলপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন / ছবি- সংগৃহীত

কিম্বার্লি আরও বলেন, “রুবিওর বক্তব্য এবং ট্রাম্পের পোস্টগুলো থেকে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণ করছে। তারা একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখছে, আবার অন্যদিকে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে।”

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি

মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থাকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া যাবে না।’

রুবিওর মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি সরাসরি হুমকি। তিনি দাবি করেন, ‘ইরান যেসব স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, সেগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে হামলা চালানো।’

তিনি আরও বলেন, ইরান চাইলে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করতে পারে, কিন্তু এমন কোনো পদ্ধতি তারা রাখতে পারবে না যা দিয়ে খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, ‘তাদের সব ধরনের অস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে।’

বিপরীত যুক্তি : তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ

তবে ইরানকে ‘আক্রমণাত্মক হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের এই প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গত তিন শতাব্দীতে ইরান শেষ কবে তার প্রতিবেশীদের আক্রমণ করেছে?’ 

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘ডুয়াল ট্র্যাক’ বা দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ‘নিশ্চিহ্ন’ করার সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন। অর্থাৎ, আলোচনার টেবিলে সমাধানের সুযোগ থাকলেও সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখছে মার্কিন প্রশাসন

আহমাদিয়ান যুক্তি দেন যে, ইরানের সামরিক কৌশল মূলত একটি অসম যুদ্ধে (asymmetric conflict) নিজেদের রক্ষা বা প্রতিরোধের জন্য তৈরি। তিনি বলেন, ‘ইরান কেন এখন এসব করছে? কারণ, এই অসম যুদ্ধে তারা তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতেই তারা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।’

dhakapost
ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া / ছবি- সংগৃহীত

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তার মতে, ‘এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুটি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখেছি যে, প্রতিটি মার্কিন প্রশাসনের কাছেই ইরান একটি প্রধান আলোচনার বিষয় এবং তারা সবসময়ই ইরানের বিরুদ্ধে সব পথ খোলা (all options are on the table) রাখার কথা বলে আসছে।’

মাসের প্রয়োজন নেই, কয়েক সপ্তাহেই লক্ষ্য অর্জন

মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে— উল্লেখ করে ওয়াশিংটনের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো ব্যাখ্যা করেছেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করা, যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল তাদের নৌবাহিনীকে গুঁড়িয়ে দেওয়া, যার বড় অংশই অর্জিত হয়েছে।’

রুবিও আরও জানান, এখন তাদের মূল মনোযোগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা। 

সামরিক অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও এগিয়ে আছি। চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের মাসের পর মাস সময় লাগবে না, এটি এখন মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার। ঠিক কত সপ্তাহ লাগবে তা আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলব না, তবে এটি কয়েক মাসের বিষয় নয়।’

মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পর্কে আল-জাজিরার প্রশ্নের জবাবে মার্কো রুবিও জানান, তার বর্তমান অবস্থান এখনও অস্পষ্ট। রুবিও বলেন, ‘আমরা জানিই না তিনি আদৌ ক্ষমতায় আছেন কি না। বলা হচ্ছে তিনি ক্ষমতায়, কিন্তু কেউ তাকে দেখেনি, তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্ত হলো, ইরানকে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। রুবিওর মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি। যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে দাবি করছে, তবে ওয়াশিংটন কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হতে দেবে না

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত ঘোলাটে। সেখানে সিদ্ধান্তগুলো ঠিক কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা মোটেও পরিষ্কার নয়।’

dhakapost
তেহরানের প্রশাসনিক এলাকা। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র / ছবি- সংগৃহীত

শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কি যুদ্ধের লক্ষ্য

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বাগত জানাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নয়।

 রুবিও বলেন, ‘ইরান যদি এমন কারও নেতৃত্বে পরিচালিত হয় যাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা ভিন্ন, তবে আমরা সবসময়ই তেমন পরিস্থিতিকে স্বাগত জানাব। যদি তেমন কোনো সুযোগ আসে, তবে আমরা তা লুফে নেব।’

ইরানের সাধারণ মানুষ ‘আরও ভালো নেতৃত্ব’ পাওয়ার যোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরানিরা কি বর্তমান ধর্মীয় শাসনের চেয়ে ভালো নেতৃত্ব পাওয়ার যোগ্য? একশভাগ যোগ্য। যদি সেখানে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে, তবে কি আমরা ব্যথিত হব? একদমই না।’ এমনকি রাজনৈতিক পরিবর্তন সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা তাতে অংশ নিতে আগ্রহী হব।’

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ : দোদুল্যমান মার্কিন নীতি

তবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পতনের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সরকারি বিষয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘শুরুতে সরকার পতনই ছিল মূল লক্ষ্য, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, “এখন আমরা দেখছি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলছেন যে তিনি এমন কিছু পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন যারা নতুন একটি শাসনব্যবস্থার অংশ হতে পারে। ফলে এখানে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে, এটি এখন আর তাদের এক নম্বর লক্ষ্য নয়।”

dhakapost
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তর। যুদ্ধের সময় আকাশপথ ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় স্পেনসহ বেশকিছু মিত্র দেশের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন / ছবি- সংগৃহীত

ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা ও জোট পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরান যুদ্ধের সময় কিছু ন্যাটো সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশপথ এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনকে হয়তো এই সামরিক জোটের কার্যকারিতা পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। স্পেনসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশপথ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিপদের সময় যদি ইউরোপীয় মিত্ররা সহযোগিতা না করে, তবে যুদ্ধ শেষে এই সামরিক জোটের প্রয়োজনীয়তা ও শর্তাবলি নিয়ে নতুন করে ভাববে যুক্তরাষ্ট্র

রুবিও কড়া ভাষায় বলেন, ‘স্পেনের মতো দেশ আছে, যারা ন্যাটোর সদস্য এবং যাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি। অথচ তারাই আমাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না এবং বিষয়টি নিয়ে গর্ব করছে। এমনকি তারা আমাদের নিজস্ব ঘাঁটিগুলোও ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।’ 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— এই জোট থেকে আসলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তি কী?’

রুবিও আরও যোগ করেন, ‘ন্যাটো যদি কেবল এমন এক ব্যবস্থা হয় যেখানে আমরা ইউরোপকে রক্ষা করব, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনের সময় তারা ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার দেবে না— তবে এটি মোটেও ভালো কোনো বন্দোবস্ত নয়।’

সূত্র : আল-জাজিরা।

এমএআর/