ইরানের যেসব নাগরিক এবং বসবাসের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি গুপ্তচরবৃত্তি বা শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করছেন— অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যাবতীয় সহায়-সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা দেশটির বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এমনকি কোনো নাগরিক যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি শত্রুদের সহযোগিতা করতে পারে— তাহলে সেটিকেও গোয়েন্দা সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং ওই নাগরিককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।
এদিকে যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গুপ্তচরবৃত্তি বা শত্রুপক্ষকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
বিজ্ঞাপন
বিচারবিভাগের ওই মুখপাত্র বলেছেন, গত বছর ইরানের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করেছে। সেই আইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে ‘শত্রুপক্ষ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : জিও নিউজ
এসএমডব্লিউ
