ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের নিরসনে নতুন যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে পাকিস্তান, তা পর্যালোচনা করছেন ইরানের সরাকরি কর্মকর্তারা। আজ সোমবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা নতুন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছি। এতে খানিকটা সময় লাগবে। প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।”
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর মার্চের মাঝামাঝি ইরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল সেই প্রস্তাব। তবে ইরান তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
পরে শনিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠান ট্রাম্প। সেই প্রস্তাবে যুদ্ধ থামানোর জন্য দুই স্তরের পরিকল্পনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে এবং এই বিরতির সময়েই আলাপ-আলোচনা ও কূটনীতির ভিত্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ বের করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানি অবরোধ প্রত্যাহারে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আহ্বান জানানো হয়েছে যে যুদ্ধবিরতির এই ৪৫ দিনে যেন ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি না রাখে।
তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান এ আহ্বানের সঙ্গে একমত নয়। অর্থাৎ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে রাজি নয় ইরান।
পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর পর গতকাল রোববার তেহরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না দেয়— তাহলে দেশটির সবগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ
এসএমডব্লিউ
