ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ও চুক্তি করতে সময়সীমা বেধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তার শর্তে রাজি না হয় তাহলে একদিনে ইরানকে তছনছ করে দেবেন। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজ ধ্বংস করে দেবেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এটি কি আদৌ সম্ভব?
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল গ্রিফিত এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পিটার লেটনকে।
সামরিক এই বিশেষজ্ঞকে সিএনএনের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের কয়েকশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সম্ভবত কয়েক হাজার ব্রিজ ধ্বংস করতে পারবে?
বিজ্ঞাপন
জবাবে পিটার লেটন কিছু হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেছেন—
পিটার বলেছেন, তিনি হিসাব করে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোম্বারের বহর একটি মিশনে একসঙ্গে দুই হাজার পাউন্ডের ৯৬টি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক বোমা বহন করতে পারে। দিনে বি-২ বোম্বারগুলো দিয়ে যদি দুটি মিশন চালানো হয় তাহলে সেগুলো ইরানে গিয়ে ১৯২টি বোমা ফেলতে পারবে।
বি-২ বোম্বারের বহরের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরও ৪০টি এফ-১৫ বিমান অংশ নেয়, যে বিমানগুলো একেকটি ছয়টি করে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বহন করতে পারে। তাহলে এই ৪০টি বিমান দিয়ে ২৪০টি বোমা ইরানে ফেলা যাবে।
বিজ্ঞাপন
যার অর্থ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় হামলার প্রস্তুতি নেয় তাহলে একদিনে তারা সবমিলিয়ে ৩৪০টি বোমা ফেলতে পারবে।
তিনি এও বলেছেন, ৩৪০টি বোমাও যদি নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত করে তা সত্ত্বেও এগুলো যে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারবে সেটির নিশ্চয়তা নেই।
তার মতে, একেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক বড় জায়গা নিয়ে তৈরি। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে খুবই সতর্কতামূলক পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৈরিতে অনেক সময় শক্ত বস্তু ব্যবহার করতে হয়।
কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকেও আবার উড়িয়ে দিচ্ছেন না অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর এ সাবেক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “যদি আপনি ভেতরে ঢুকতে পারেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলোর ক্ষতি করতে পারেন এবং আর কোনো বাড়তি জেনারেটর না থাকে তাহলে আপনি অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবেন।”
বি-২ বোম্বারের পাশাপাশি মার্কিনিরা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে বি-১ এবং বি-৫২ বোম্বার ব্যবহার করতে পারে। যেগুলোর একেকটি যথাক্রমে ২৪ ও ২০টি করে বোমা বহন করতে পারে। এই সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এসব বিমান হামলায় যুক্ত করলেও একরাতে ইরানকে তছনছ করে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান।
সূত্র: সিএনএন
এমটিআই
