ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ঐতিহাসিক এক আলোচনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ঐতিহাসিক এই সংলাপকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো ইসলামাবাদ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখানে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদে পৌঁছায় আজ (শনিবার) সকালে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ২-তে চেপে গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। দলে ভ্যান্স ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মার্কিন এই প্রতিনিধি দলটির নিরাপত্তায় কয়েক দিন আগেই মার্কিন বিশেষ কার্গো বিমান সি-১৭ যোগে সাঁজোয়া যান ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। মার্কিন প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে থাকাকালীন নিজস্ব বিশেষ যানবাহন ব্যবহার করবেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ
সংলাপ উপলক্ষে আজ ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাজপথগুলো অন্য দিনের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা। গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোন’ এলাকাটি সম্পূর্ণ ব্লক করে দিয়েছে প্রশাসন। রেড জোনের পরিধি বাড়িয়ে এর আওতাভুক্ত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরাসরি সেনাবাহিনীকে। বিমানবন্দর থেকে রেড জোন পর্যন্ত মহাসড়কগুলোতে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ করে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘ইসলামাবাদ টকস’ সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে এই আলোচনার মূল আসর বসবে। সেখানে বড় পর্দাসহ সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই বৈঠক ঘিরে সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের শত শত সংবাদকর্মী এই সংলাপ কভার করতে পাকিস্তানে জড়ো হয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে অনেক সাংবাদিক বিড়ম্বনায় পড়েছেন। রেড জোনের হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া এবং প্রবেশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন। একজন মার্কিন সাংবাদিক জানিয়েছেন, হোটেলের কাছে চিত্রধারণের উপযুক্ত একটি জায়গার জন্য তাদের কাছ থেকে দিনে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে এবং দেশটির সক্রিয় মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। রেড জোনের বাইরে জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই সংলাপ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। যদিও সড়ক বন্ধ থাকার কারণে অনেককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেড জোনের ভেতরে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং ভিডিও চিত্রধারণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমাতে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।
এনএফ
